বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেরা ১০ টি পার্থক্য


বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। আমাদের দেশটি পৃথিবীর একটি ছোট অংশ জুড়ে আছে।আমাদের দেশটির পাশে ভারত ও মিয়ানমার দেশ দুটির অবস্থান। তার মধ্যে ভারতের সীমান্ত  সবচেয়ে বেশি অংশ জুড়ে।

তাছাড়া ভারতের সাথে আমরা  অনেক বিষয় নিয়ে সম্পর্কযুক্ত।আমাদের দেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে যেমন মিল আছে তেমনি আছে অমিল।আর সেই অমিল নিয়ে আজ লিখব বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেরা ১০ টি পার্থক্য  নিয়ে। 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেরা ১০ টি পার্থক্য

দুদেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে বেশি তফাৎ দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  ১০টি দিক নিয়ে আজকে আলোচনা করব।

 ১) আয়তনের পার্থক্যঃ

আয়তনের পার্থক্য
আয়তনের পার্থক্য

 বাংলাদেশঃ আমাদের দেশের আয়তন  ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার। আমাদের দেশটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ৯২তম দেশ। বাংলাদেশের স্থলসীমার দৈর্ঘ্য ৪,২৪৭ কিলোমিটার।বাংলাদেশের 

উপকূলীয় দৈর্ঘ্য ৫৮০ কিলোমিটার।আমাদের মোট আয়তনের  ৬.৪% হল পানি।।বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ ২টি হলো ভারত ও মিয়ানমার। 

 ভারতঃ আয়তনের দিক দিয়ে ভারত ৭ম অবস্থানে আছে যার মোট আয়তন ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গ কিলোমিটার। ভারতের স্থল সীমার দৈর্ঘ্য ১৫,২০০ কিলোমিটার।  ভারতের উপকূলীয় দৈর্ঘ্য ৭,৫১৭ কিলোমিটার। আর ভারতের মোট আয়তনের ৯.৫৬% পানি।ভারতের রয়েছে ৭টি সীমান্তবর্তী দেশ।যথাঃচীন,নেপাল,ভুটান,বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার। 

২)ভৌগলিক পার্থক্যঃ

ভৌগলিক পার্থক্য
ভৌগলিক পার্থক্য

বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ।৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদী আছে এদেশের বুকে।এদেশের পশ্চিম সীমান্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়,পূর্বে রয়েছে আসাম,ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার , দক্ষিণ দিকে আছে বঙ্গোপসাগর।

বাংলাদেশের কক্সবাজার পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। যা দেখার জন্য দেশি বিদেশি প্রচুর পর্যটক এখানে আসে।

এদেশের বেশিরভাগ এলাকাই সমুদ্র সমতল থেকে ১০ মিটার উচ্চতায় রয়েছে।এদেশের উচ্চতম স্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের মোডক পর্বত (১০৫২ মিটার)।বাংলাদেশ নিচুভূমির দেশ হওয়ায় পাহাড়ের সংখ্যাও কম।দক্ষিণ পূর্বে আছে চট্টগ্রামের পাহাড়,উত্তর-পূর্বে সিলেটে নিচু পাহাড়,উত্তর-পশ্চিমে কিছু উচ্চভূমি। তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া।যার উচ্চতা ১০৬৪ মিটার।এছাড়া উল্লেখযোগ্য চূড়াসমূহ হল কেওক্রাডং, মাইথাই জামা হাফং,কপিতাল,জো তল্যাং,দুমলং প্রভৃতি। 

বাংলাদেশে নদীমাতৃক দেশ তাই এদেশে নদীর সংখ্যাটাও অনেক।প্রায় ৩১০ টি নদ-নদী আছে যা এদেশের ২৪,১৪০কিলোমিটার জায়গা জুড়ে আছে।তবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদীর সংখ্যা ৪০৫ টি। বৃহত্তম নদীর মধ্যে পদ্মা,মেঘনা,যমুনা,ব্রহ্মপুত্র,কর্ণফুলী, শীতলক্ষ্যা রয়েছে। 

ভারতঃ দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্র ভারতের উত্তর সীমান্তে আছে চীন,ভুটান ও নেপাল,পশ্চিমে পাকিস্তান, উত্তর-পূর্বে আছে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ।ভারতের ভৌগলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে।

ভারতের এত বিশাল আয়তন আর সমুূদ্র সৈকতও অনেকগুলো হবে এটাই স্বাভাবিক।এদেশের ভুমির অবস্থানও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম।এদেশের উল্লেখযোগ্য সমুদ্র সৈকত হল গুজরাটের চক্রতীর্থ, মুম্বাইয়ের চৌপাটি,উত্তর গোয়ার অঞ্জুনা সৈকত ও মরজিম সৈকত,দক্ষিণ গোয়ার পালোলাম সৈকত,উড়িষ্যার মেরিন প্যারেড সৈকত ইত্যাদি।এদেশটির উচ্চতম স্থান কাঞ্চনজঙ্ঘা যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার।

ভারতের উত্তর সীমায় রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা।এদেশে ১০০০ মিটার ও এর বেশি উচ্চতার পার্বত্য অঞ্চলের সংখ্যাহল ৮টি।যেমন হিমালয়,কারাকোরাম,পাটকই,বিন্ধ্য, সাতপুরা,আরাবল্লী,পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা। মধ্য ভারতে আছে উচ্চভূমি ও দাক্ষিণাত্য মালভূমি। 

ভারত নদীমাতৃক দেশ না হলেও নদীর সংখ্যা কিন্তু কম নয়। ৭ টি প্রধান নদী থেকে অসংখ্য শাখা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের দীর্ঘতম নদী হল গঙ্গা।

৩)জাতিগত পার্থক্যঃ

বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের আকার আকৃতিতে অনেক মিল থাকলেও জাতি হিসেবে ভিন্নতা রয়েছেই।ভারতের বাংলা ভাষাভাষী জনগণের সাথে কথা বললে বোঝা যাবে না যে তারা ভারতীয় না বাঙালি জাতি।

এছাড়া বাংলাদেশের জনগণ অধিকাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। ফলে ভারতের বাঙালী জনগণের সাথে ধর্মীয় পার্থক্য থেকেই যায়।আবার বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুগামীরা হিন্দু প্রধান দেশ ভারতকে পুন্যভূমি মনে করেন।ফলে তারা প্রায়শই ভারত গিয়ে ধর্মীয় কার্যাবলিতে অংশ নিয়ে থাকে।

আবার বাংলাদেশের মুসলিমদের সংখ্যা ভারতের মুসলিমদের সংখ্যার চেয়ে কম।ভারত জনবহুল দেশ হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম জাতি থাকলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে স্বীকৃত।

ভারতের সব জায়গায় কিন্তু একই গড়নের মানুষের বাস নয়।যেমনটা বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে।তাদের চেহারা,শারীরিক গঠন এদেশের মুল জনগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন। 

ভারতের দার্জিলিং এর অধিবাসীদের চেহারায় মঙ্গোলীয় ছাপ আছে।কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের অধিবাসীদের মধ্যে ককেশীয় ছাপ দেখা যায়।পশ্চিমবঙ্গবাসীরা কিন্তু একরকম বাঙালি মনে করে নিজেদের।কারণ তাদের গঠন,চেহারা বাংলাদেশিদের মত।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা যা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত। ভারতেও বাংলাভাষাভাষী জাতির সংখ্যাও কয়েক কোটি।এরা নিজেদের ভারতীয় বাঙালি জাতি বলে পরিচয় দেয় এবং এটা তাদের অফিসিয়াল ভাষাও বটে।

বাংলাদেশে বাংলা ছাড়া ইংরেজি ও আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা প্রচলিত আছে স্বল্প পরিমানে।কিন্তু ভারতে রাষ্ট্রভাষা হিন্দি ছাড়াও কয়েকহাজার ভাষার জনগোষ্ঠী রয়েছে।

বাঙালি জাতি অতিথিপরায়ন জাতি।তারা সহজ সরল ও শান্তিপ্রিয়। ভারতীয়রা বিভিন্ন অঞ্চলভেদে বিভিন্ন মানসিকতার জাতি রয়েছে যারা একেক রাজ্য থেকে আলাদা।

ভারতে বিভিন্ন ধর্মের প্রচলন থাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।তবে বাংলাদেশীরা প্রধান চারটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাদে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ও উৎসবে একত্রে অংশগ্রহণ করে।

৪)রাজনৈতিক পার্থক্যঃ

বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭২ সালে এদেশের সংবিধান প্রণীত হয়।এদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু আছে।প্রতি ৫ বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে সকল ক্ষমতা থাকে।গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়। দেশের আইন প্রণয়ন করা হয় জাতীয় সংসদে।

এদেশে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে।বর্তমান ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া প্রধান বিরোধী দল হলো জাতীয় পার্টি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম,জাকের পার্টি প্রভৃতি। 

ভারতঃ ব্রিটিশদের কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ।জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়।

এদেশে প্রধানমন্ত্রীই সরকার প্রধান।যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি দেশের আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে পরিগণিত। কংগ্রেস ও বিজেপি হল প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল। বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় আছে।

৫)অর্থনৈতিক পার্থক্যঃ

বাংলাদেশঃবাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।এদেশকে গরীব দেশ বলেই মনে করা হত একসময়।তবে ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ও ব্যাক্তি পর্যায়ের সফল উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে অনেক সাফল্য পাচ্ছি অর্থনীতিতে। 

এদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিপ্রধান।দেশের মোট আয়ের চার ভাগের এক ভাগ আসে কৃষি থেকে।কৃষি,পশু সম্পদ,বনজ সম্পদ,মৎস সম্পদ থেকে শতকরা ২১ ভাগ আয় যোগ হয় অর্থনীতিতে। 

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেক বড় অবদান আসে পোশাক শিল্প থেকে।কারণ আমাদের দেশে শ্রম বাজার সহজলভ্য।এই শ্রমবাজারকে ব্যবহার করে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় আমাদের।তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখনও ধীরগতি বিদ্যমান।

ভারতঃ ভারত পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।তবে তাদের এ বর্তমান সাফল্য কিন্তু খুব বেশিদিনের নয়।১৯৯০ এর পরে ভারত  অর্থনীতির উদারীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে আজকের এ অবস্থান অর্জন করেছে।

মুলত কৃষি, শিল্প,হস্তশিল্প, বস্ত্রশিল্প, বিভিন্ন সেবাখাত,প্রযুক্তি হল ভারতপর অর্থনীতির মুল উৎস। শ্রমশক্তির  দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিকাজের সাথে জড়িত।ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা লাভ করে আর প্রযুক্তির জ্ঞান নিয়ে তরুণ শিক্ষিতরা নিজেদের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখছে।এমনকি সারা বিশ্বে চাকরির বাজারে ভারতীয়রা ছড়িয়ে আছে।

৬)জলবায়ুগত পার্থক্য ঃ

বাংলাদেশঃবাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।বছরে ছয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়।

বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে ফলে এখানে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু দেখা যায়।

গরম বা শীত কোন ঋতুই চরমভাবাপন্ন নয়। বর্ষাকালটা মাঝে মাঝে দুর্ভোগের কারণ হয়।এদেশে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৮°সে.সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ১৭°সে.বর্ষাকালে গড় বৃষ্টিপাত হয় ২০৩ সে.মি.

ভারতঃ ভারত বিশাল আয়তনের দেশ হওয়ায় সবজায়গায় একরকম জলবায়ু দেখা যায়না।কোথাও মরুভুমির উষ্ণতা আবার তুষারপাতের মত ঘটনাও ঘটে। ভারতের জলবায়ু সাধারণত ক্রান্তীয়।ফলে দেশে ঝড়,বন্যা,খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়।

ভারতের এক অংশে হিমালয় পর্বতের প্রভাবে শীতের তীব্রতা থাকে আবার আরেক অংশে থর মরুভূমির প্রভাবেও উষ্ণতা বিরাজ করে।উত্তর ভারতের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।গরম ও শীত দুটোই এখানে তীব্র। 

বছরে ৪টি ঋতুর উপস্থিতি দেখা যায়।গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত।এছাড়াও শীতের আগে হেমন্ত ও বসন্তের আভাস পাওয়া যায়।

৭)শিক্ষাঃ

শিক্ষা
শিক্ষা

বাংলাদেশঃ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্হা পরিবর্তনশীল।৩স্তর বিশিষ্ট শিক্ষা ব্যবস্হায় প্রথমে আছে প্রাথমিক, দুইয়ে আছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং তিনে আছে উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর।দেশে ৭টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ টি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমেও পড়ার ব্যবস্হা আছে।ইংরেজি মাধ্যম আবার দুটি ভাগে বিভক্ত।বাংলা মাধ্যমের ইংরেজি ভার্সন যেখানের সিলেবাসে বাংলাদেশের কারিকুলাম অনুসারে পড়ানো হয়।আর ইংরেজি মাধ্যমে ব্রিটিশ সিলেবাস অনুসরণ করা হয়।আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আছে আরবি, বাংলা ও ইংরেজির সমন্বয়ে গঠিত ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তারে। 

২০০১ সাল থেকে দেশে ফলাফল নির্ধারণে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে।পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়েছে।সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকম সরকারি-বেসরকারি চাকরি বা পেশায় যোগ দেয়।অনেকে দেশের বাইরে পড়াশুনা করতে যায়।

ভারতঃ ভারতের শিক্ষাব্যবস্হায় ৩ টি ধাপ (কেন্দ্রীয়,রাজ্য ও স্হানীয়)প্রচলিত থাকলেও সম্প্রতি তা ৫টি স্তরে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৭%। 

দেশের ৬-১৪বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। ইংরেজি ও স্থানীয় মাতৃভাষাতে শিক্ষা গ্রহণ করার ব্যবস্হা রয়েছে।

ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্হা বিশ্বে ৩য় অবস্হানে আছে।দেশের অর্থনীতিতে এ উন্নত উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অবদান অনেক।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ১৫ টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্হাকে পরিচালনা করে।

৮)সংস্কৃতিঃ

সংস্কৃতি
সংস্কৃতি

বাংলাদেশঃ যেকোন দেশের সংস্কৃতি সে দেশের জনগণের ধর্ম অনুসারে গড়ে ওঠে।বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ তাই এদেশের সংস্কৃতি ইসলাম ধর্মানুসারে গড়ে উঠেছে।এছাড়াও অতীতের ঐতিহ্য, পার্শ্ববর্তী দেশ ও পূর্ববর্তী শাসক দেশগুলোর আচার আচরণও এদেশের সংস্কৃতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশে কারও সাথে সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করা হয়।পরিচিত হলে কুশলাদি জানতে চাওয়া হয়।গুরুজনকে সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সালাম দেওয়া হয়।অতিথি এলে তাদের যথাযথ সম্মানের সাথে আপ্যায়ন করাও বাঙালি সংস্কৃতির অংশ।মুসলিমরা দুই ঈদে উৎসব করে।অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও তাদের নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব পালন করে।এক ধর্মাবলম্বী অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধু ও প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানায় যা জাতিতে জাতিতে এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তোলে।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় দিবস ও অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের সাথে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণও আমাদের দেশের সংস্কৃতির এক অনন্য উদাহরণ।বিভিন্ন সামাজিক উৎসব যেমন পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব,বর্ষবরণ ইত্যাদিও বাঙালীদের সংস্কৃতির অংশ।

ভারতঃ ভারতীয় সংস্কৃতি বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে আলাদা।কারণ ভারতের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে ওখানকার ধর্ম ও ভৌগলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে। ভারতও ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হলেও ব্রিটিশদের রীতিনীতি এদেশে ঢুকে গেছে।ভারতের মানুষেরা নাচ,গানকে অনেক ভালোবাসে।দেখা যায় তাদের ধর্মীয় প্রয়োজনে গান ও নাচ করতে হয়।তাই তারা নাচ, গানে পারদর্শী।

ভারতের সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ঐক্য।যেকোন সংকটে সমগ্র ভারতবাসীর ঐক্য ঈর্ষণীয় উদাহরণ। কারণ এ ঐক্য আজ অনেকটাই বাংলাদেশীদের মধ্যে অনুপস্হিত, ফলে আজ বাংলাদেশীরা অনেক ভোগান্তি পোহাচ্ছে। 

ভারতে মুঘল শাসনামলের প্রভাব কিন্তু এখনও এখানকার খাদ্য,পোশাকপরিচ্ছদ, স্হাপত্যে বর্তমান।মোঘলাই পরোটা,বিরিয়ানি ওদের প্রিয় খাবার।

এছাড়া সাহিত্য,চলচ্চিত্রেও ভারতের অবদান বিশ্বে অন্যতম।তারা তাদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিশ্বদরবারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 

৯)খাদ্যঃ

বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি।দারিদ্র্যতা আমাদের জীবনের সাথে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খাদ্যের উপরও সেই প্রভাব দেখা যায়।তবে দেশের মুষ্টিমেয় কিছু লোকের কাছে খাদ্য এত বেশি মজুদ আছে যা বাকি জনগনকে ভাগ করে দিলে হয়ত খাদ্যাভাব থাকত না।যাই হোক তবুও বাঙালিরা কিন্তু ভোজনরসিক। 

বাংলাদেশিদের প্রধান খাদ্য ভাত।তিনবেলা ভাতের সাথে সবজি,ডিম ও মাছ থাকে।এজন্য মাছে ভাতে বাঙালি আমরা।মাংসও খাওয়া হয় ব্যাপক।উৎসব হোক বা বিশেষ কোন অনুষ্ঠানে বা অতিথি আপ্যায়নে মাংস খাদ্যতালিকায় থাকবেই।

এছাড়া পান্তা,ইলিশ ভাজা,খিচুড়ি, গরুর মাংস,ডিম ভাজা বা ভুনা,সবজি ভাজা,নিরামিষ, ভর্তা ইত্যাদি আমাদের রোজকার খাদ্যতালিকায় প্রায়ই খেয়ে থাকি।

বিশেষ উপলক্ষে পোলাও,মুরগীর রোস্ট, গরুর মাংস,খাসীর মাংস,হাঁসের মাংস ইত্যাদি খাওয়া হয়।মিষ্টি খাবারের তালিকায় বাঙালিরা মিষ্টিকেই পছন্দ করে। দুধ দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করা হয় যেগুলো বেশিরভাগই মিষ্টি স্বাদের ও মজাদার।যেমন পায়েস,দই,রসগোল্লা, সন্দেশ, সেমাই ইত্যাদি।রাতের খাবারের পর এক গ্লাস খালি দুধ খাওয়াও আমাদের অনেকের অভ্যাস।

মাছে ভাতে বাঙালিরা মাছ হিসেবে বিভিন্ন রকম মাছ খেয়ে থাকে।নদী-নালা,খাল-বিল,পুকুর,সাগর থেকে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়।আমাদের মাছ খাওয়ার ধরনও আলাদা।তেল,পিঁয়াজ ও বিভিন্ন মশলা দিয়ে মাছের ঝোল রান্না করা হয়। ভাতের সাথে এ মাছ খেতে খুবই মজা। তাছাড়া মাছ ভাজা,ভুনা ও ভর্তা করেও খাওয়া হয় কিছু মাছ।

মাংস হিসেবে গরু,খাসী,হাঁস,মুরগী খাওয়া হয়।গরুর মাংস ভুনা বা ঝোল,মুরগী ভুনা বা ঝোল,খাসীর মাংসের রেজালা,হাঁসের মাংস ভুনা সবই লোভনীয় বাঙালি খাবার।এছাড়া ভেড়া,দুম্বা,পাখির মাংসও খাওয়ার প্রচলন আছে।

ভারতঃ এবার ভারতীয়দের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বলব কি কি পার্থক্য আছে বাংলাদেশীদের সাথে।কারণ ভারতের খাদ্যাভ্যাস আবার ওদের ভৌগলিক অবস্থানের সাথে জড়িত।

ভারতের প্রধান ফসল ধান।তাই বলে সারা দেশে সব অংশে ভাতকে প্রধান খাদ্য হিসেবে নেওয়া হয় না।কেননা পুরো ভারতের উত্তরাংশে গম বেশি জন্মে তাই এখানকার লোকেরা গমের তৈরি খাবার বেশি খায়।আর দক্ষিণাংশে ধানের আধিক্য বেশি হওয়ায় দক্ষিণ ভারতীয়রা ভাত ও ধান থেকে তৈরি বিভিন্ন খাবার খেয়ে থাকে তাদের প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায়।

২০১৭ সালে খিচুড়ি কে ভারতের প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কারণ এটি রান্না করা সহজ ও উপাদেয়। খিচুড়িতে চালের সাথে ডাল,সবজি,মাছ,মাংস,ডিম ইত্যাদি মিশিয়ে রান্না করা হয়। ফলে এক খাবারেই পুষ্টি অনেক পাওয়া যায়।

এছাড়া সামুদ্রিক মাছ, মাংস,ফলও ভারতে প্রচুর সহজলভ্য।প্রচুর উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ তেল  তারা খাদ্যে ব্যবহার করে থাকে।মাখন,পনির,ঘি প্রভৃতি চর্বিজাতীয় খাবারও নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় উপস্থিত থাকবেই।

ভারতীয় খাবার কিন্তু বাংলাদেশীদের কাছে অনেক প্রিয় তাই বাংলাদেশে অনেক ভারতীয় রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে।আবার বাংলার ইলিশ,চিংড়িও ভারতে যাচ্ছে।

১০)মহাকাশে সাফল্যের পার্থক্যঃ

মহাকাশে সাফল্যের পার্থক্য
মহাকাশে সাফল্যের পার্থক্য

বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ ছোট ও উন্নয়নশীল দেশ হলেও মহাকাশ বিষয়ে ততটা এগোতে পারেনি ভারতের চেয়ে।বাংলাদেশ ২০১৮ সালে তার প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু -১ মহাকাশে প্রেরণ করে। স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ নামক রকেটে এ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পৌঁছে।

এ উপগ্রহটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। 

 ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পদচারণা বাড়বে আশা করা যায়।২০২২ সালে মহাকাশে বাংলাদেশি নভোচারী পাঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এটা সম্ভব হলে মহাকাশ যুগে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

ভারতঃ ভারত মহাকাশে পদচারণা শুরু করে অনেক আগে এবং সফলতার সাথে।১৯৬৯সালে ভারত সরকার প্রতিষ্ঠিত করে ইসরো বা ইন্ডিয়ান স্পেসরিসার্চ অরগানাইজেশান। বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলির মধ্যে ইসরোর অবস্থান অনেক উপরে।

২০০৮ সালে  চন্দ্রযান-১ নামে একটি মহাকাশযান প্রথমবারের মত প্রেরণ করে সফলভাবে।এছাড়া ১৫ টি রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট প্রেরণ করেছে ভারত।মহাকাশে ভারতের আরেকটি সফল পদচারণা হল মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে মঙ্গলযান নামে একটি স্যাটেলাইট প্রেরণ করা।এটি এখনও কক্ষপথে ঘুরছে।

শেষ কথাঃ

আজকের লেখায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেরা দশটি পার্থক্য নিয়ে তথ্য দিলাম।আপনাদের ভালো লাগলে কমেন্ট করে উৎসাহ দিবেন।

Explore more:

বিশ্বের সেরা ১০টি দীর্ঘতম সেতু এবং তাদের চমকপ্রদ তথ্য যা আপনাকে অভিভূত করবে

Recent Posts