বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য


 জন্মের পর থেকেই মানবশিশুর শিক্ষা শুরু হয়। তাইতো মহানবী (সাঃ) বলেছেন ” দোলনা হতে কবর পর্যন্ত জ্ঞান আহরণ করো।”  কোন দেশের আগামী প্রজন্ম কেমন হবে তা শিক্ষার উপরই নির্ভর করে। আলোকিত মানুষ হবার সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শেষ পর্যায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়।  

যেকোন দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি তৈরির অন্যতম মূল বুনিয়াদ হচ্ছে ঐ দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বলেন,” একমাত্র প্রতিভা নিয়োগের মাধ্যমেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা অবস্থানে যেতে পারে। যা সত্যিই খুব সহজ।”

সবাই চায় দেশের এত এত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চান্স পেতে। কিন্তু আমরা কতজনেই বা জানি কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেরা হবার মর্যাদা তাদের দখলে রেখেছে। পছন্দের সেরা সে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বা ঘুরে দেখার জন্যে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান তথ্য জানা দরকার। তাই আজ বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিয়ে আলোচনা করব।

 বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

  বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে পাবলিক, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বলতে আমরা যা বুঝি-

 যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় সরকার দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সরকারের আর্থিক সহায়তা পায় তাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী যারা উচ্চশিক্ষা নিতে পারেনা আর সে জন্য বাংলাদেশ সরকার বিপুল শিক্ষার্থী ও তাদের পিতামাতার দুঃখ লাঘব করতে উন্নয়ন করে যাচ্ছে। সরকার উচ্চতর শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছে। বর্তমানে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। আজ বাংলাদেশের সেরা দশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানবো।

 উদ্ভাবনী কর্মকান্ড,গবেষণা, শিক্ষার বৈচিত্র্য, শিক্ষার পরিবেশ, সুনাম, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্প আয় ইত্যাদির মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তার তালিকা করা হয়। এখানে বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো-

1. বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

  ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কাজ সম্পাদনের জন্য স্থানীয় ভাবে ও বিশ্বব্যাপী একটি প্রিমিয়ার টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হবার উদ্দেশ্যে ১৯১২ সালে গড়ে উঠা প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সংক্ষেপে যে বুয়েট নামে পরিচিত। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র পলাশী এলাকায় অবস্থিত সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুয়েট। বর্তমানে ক্যাম্পাসটি ৮৩.৯ একর (৩৩.৯৫ হেক্টর) জমি দখল করে আছে। একাডেমিক অঞ্চল শহীদ শরণী, বকশী বাজার রোড এবং এশিয়ান হাইওয়ে দ্বারা নির্ধারিত ৩১.৮ একর জমি জুড়ে রয়েছে। গত তিন দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক প্রসারণের মাধ্যমে হয়ে উঠেছে বেশ চিত্তাকর্ষক ও মনোমুগ্ধকর। 

বুয়েট দেশের উচ্চতর পড়াশোনার জন্য হয়ে উঠেছে সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রায় ৯২৩৪ শিক্ষার্থী এখানে প্রকৌশল, আর্কিটেকচার,পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিষয়ে পড়াশোনা করছে। ৬২৪জন প্রথিতযশ শিক্ষক এখানে পাঠদান করে যাদের মধ্যে ৪৪৬জন সক্রিয় শিক্ষক রয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি ২৬৪ জন শিক্ষক যারা পিএইচডি ডিগ্রীধারী বাকি শিক্ষকরা ইউএসএ, জাপান এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে স্নাতকোত্তর পড়াশোনায় নিযুক্ত আছেন।

 সংক্ষেপে বুয়েটের ইতিহাস, অনুষদ, গ্রন্থাগার এবং সমাবর্তন

বুয়েট হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৌশল ও স্থাপত্য অধ্যয়নের জন্য সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। এটা পুরান ঢাকার নলগোলাতে ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন বাংলার সরকারের সার্ভেয়ারদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠা করা ঢাকা জরিপ বা ঢাকা সার্ভে বিদ্যালয়। ১৯১২ সালে বুয়েট বর্তমান প্রাঙ্গনে স্থানান্তরিত করা হয়। 

১৯৪৭ সালে সার্ভে স্কুলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উন্নীত হয়। ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর গবেষণার সুবিধার্থে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেয়া হয়। যার নাম পূর্বপাকিস্তান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর জ্ঞানের সমুদ্র নীতিবাক্যের সাথে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করা হয়েছে। আজ অবধি ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচারের বিভিন্ন শাখায় প্রায় ৩০৬৮ গ্র‍্যাজুয়েট তৈরি করেছে যারা সারা পৃথিবীতে সুনাম প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছে। বুয়েটের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার।

  বর্তমানে বুয়েটে পাঁচটি অনুষদের অধীনে আঠারোটি বিভাগ রয়েছে এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট আছে।

বুয়েটের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে উপকরণের ১৪২,৯১৩ আইটেমের সংগ্রহ আছে। যার মধ্যে ১২৫০৬৬টি বই এবং ১৭৮৪৭টি আবদ্ধ সাময়িকী রয়েছে। ১৪১টি শিরোনাম জার্নালের বর্তমান সাবস্ক্রিপশন আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আটটি ছাত্রাবাস আছে। ‘শহীদ স্মৃতি হল’ তরুণ শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর ছাত্রদের জন্য যাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোন আবাস নেই।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর নাম পরিবর্তিত হলে ১৯৭৩ সালে প্রথম সমাবর্তন হয়। মোট ১০বার সমাবর্তন হয়েছে শেষ ২০১৯সালে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। 

এখানে অল্প খরচে যে কেউ পড়াশোনা করতে পারে। যে কোন ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি শিক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অন্ধভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে পারে।ওয়েবসাইট : http://www.buet.ac.bd

2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)

বাংলাদেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে যা ঢাবি হিসেবে পরিচিত। “শিক্ষাই আলো” এই স্লোগান নিয়ে চলা ১৯২১ সালে ব্রিটিশ ভারতে অক্সব্রিজ শিক্ষা ব্যবস্থা অনুসারে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। শুরু থেকে বিভিন্ন প্রথিতযশা বৃত্তিধারী ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা কঠোরভাবে মাননিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবার পছন্দের প্রতিষ্ঠান ।

ঢাবি’র ইতিহাস, অনুষদ, গ্রন্থাগার এবং সমাবর্তন

ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের অন্যায় সিদ্ধান্তের পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবি প্রতিষ্ঠার প্রধান প্রস্তাবক হিসেবে পরিচিত নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী । ১৯২০ সালে ১৩ মার্চ ‘দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ‘ আইন পাস হয়।

 ১৯২১ সালের ৭জুলাই ঢাবি’র যাত্রা শুরু হয়। তখনকার সময়ে সবচেয়ে ‘অভিজাত ও সৌন্দর্যমন্ডিত রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমির উপর মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার দিনটি প্রতি বছর ঢাবি দিবস হিসেবে পালিত হয়। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রছাত্রী ছিল ৮৭৭জন এবং ৬০জন শিক্ষক। প্রথম ছাত্রী ছিল ইংরেজি বিভাগের লীলা নাগ। 

 বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি অনুষদের অধীনে ৮৩টি বিভাগ, ১২টি ইনস্টিটিউট এবং ৫৬টি গবেষণা কেন্দ্র আছে। ঢাবিতে ৪৩০০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০টি আবাসিক হল এবং ৩টি হোস্টেল ২৩টি শিক্ষাঙ্গন রয়েছে।  এখানে ছয়জন ডিন, ৩৪০৮ প্রশাসনিক, ১৮১৭ শিক্ষায়তানিক ব্যক্তিবর্গ আছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। এখানকার শিক্ষকবৃন্দ সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি পদক পেয়েছে। একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এশিয়া উইকের পক্ষ থেকে শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পায়। কর্পোরেট জগতের ধারণা নিয়ে এসেছে আইবিএ।

 গত পাঁচ বছরে বিশ্বসেরা দুটি গবেষণা করে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়। সম্প্রতি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন বিশেষজ্ঞ ড. মাকসুদুল আলম এর নেতৃত্বে জিন প্রকৌশল ও জিন প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাটের জিন আবিষ্কার করে। এ বিভাগ থেকেই থ্যালাসিয়া ও রক্ত স্বল্পতা রোগের গবেষণা করে যার সফল ফলাফল বিশ্বব্যাপী আলোচিত।

 ঢাবি’র কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার আঠারো হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে কিন্তু বর্তমানে এখানে ছয় লাখ আশি হাজারের বেশি বই রয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েবসাইট – http://www.du.ac.bd

3. খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)

 বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে ‘কুয়েট’ অন্যতম।

বাংলাদেশের দক্ষিণে খুলনা জেলাতে অবস্থিত কুয়েট। এটা উন্নত শিক্ষা প্রকৌশল আর মৌলিক বিজ্ঞানের যেসব শাখা রয়েছে সেসব শাখার গবেষণা ও উচ্চমানের কাজের জন্য বিশেষ পরিচিত। মানসম্মত শিক্ষা গবেষণা এবং অগ্রগতি অর্জন হচ্ছে কুয়েট’র মূল উদ্দেশ্য। আর এজন্যই কুয়েটকে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী দেশের অর্থাৎ দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ‘শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলছে।

 কুয়েটের ইতিহাস, অনুষদ,গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

 খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  পূর্ব নাম ছিল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি,  তার আগে ছিল খুলনা প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়। ‘প্রভু আমায় জ্ঞান দাও’ এই নীতিবাক্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কুয়েট বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম। 

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদে ১৯৬৭সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তম একাডেমিক ও উচ্চতর গবেষণা ক্ষমতা ও পরিবেশ নিশ্চিত করতেই পরে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি,খুলনা’ নাম করা হয় ১৯৮৪ সালে।পরে ২০০৩ সালে তা বিআইটি থেকে কুয়েট নাম রাখা হয়।

কুয়েট ক্যাম্পাস খুলনা সিটির জিরো পয়েন্ট থেকে ৮ কি.মি দূরে ১০১ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এখানে ছয় হাজার ছাত্রছাত্রী ৫৫৭ এর অধিক শিক্ষক ১৩২জন কর্মকর্তা ও ৪২৫ জন কর্মচারী আছে। ৪০টি প্রকৌশল ল্যাবস আছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন, তিনজন ডিন আছে কুয়েটে। কুয়েটের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার গুলোর মধ্যে প্রথম স্বয়ংক্রিয় লাইব্রেরী যাতে Koha নামে মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার রয়েছে। এখানে বর্তমানে ৫৫২১১টি বই ৩২০৫ টি জার্নাল ১১৪০৭টি ই-বুক ৪২৯৫৫৮টি ই-জার্নাল ১৫১৬টি অডিও ভিজুয়াল সামগ্রী এবং ২১৪টি অন্যান্য সংগ্রহ। ২৫০ জন পড়াশোনা করার জন্য রয়েছে রিডিং রুম।

 কুয়েটে তিনটি অনুষদের অধীনে মোট ২০টি বিভাগ আছে। যার মধ্যে ১৬টি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রী প্রদান করা হয়।

 এখানে উচ্চমানের গবেষণার জন্য রয়েছে তিনটি ইনস্টিটিউট। এছাড়া ১বছর ও ৬মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু আছে। কুয়েটে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাতটি আবাসিক হল রয়েছে। উন্নতমানের গবেষণায় এগিয়ে আছে কুয়েট। এ ক্যাম্পাসে মুসলিমদের জন্য মসজিদ, হিন্দুদের জন্য একটি হলে মন্দির ও আট একর জমিতে আইটি পার্ক, সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়া, মুক্ত মঞ্চ, জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল রয়েছে। কুয়েট হবার পর প্রথম সমাবর্তন হয় ২০০৬ সালে আর শেষ সমাবর্তনটি হয় ২০১৮সালে। কুয়েটের দুটি অতিথিশালা আছে যার একটা ক্যাম্পাসে অন্যটা ঢাকার মোহাম্মদপুর। ওয়েবসাইট – http://www.kuet.ac.bd

4. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)

 বাংলাদেশের অন্যতম ও পূর্ণাঙ্গ আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যা সংক্ষেপে জাবি নামে পরিচিত। বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটা চতুর্থ। ঢাকার নিকটবর্তী সাভার এলাকার প্রায় ৬৯৭.৫৬ একর জমিতে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে। জাবি’র পরিবেশ জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত আশ্চর্যজনক কারণ এখানে অসংখ্য জলাশয় রয়েছে। যার ফলে পরিযায়ী পাখির অবয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে আর পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য খুব পছন্দের জায়গা হয়ে গেছে। শীতকালে জাবি ক্যাম্পাসের পরিবেশ দেখে আপনি মায়ায় পরে যাবেন।

 জাবি’র ইতিহাস, অনুষদ,গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

 ঢাকা শহর থেকে প্রায় ৩২কি.মি দূরত্বে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিমে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নামে এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে স্থাপিত হয়। ভূগোল, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি এবং গণিত চারটি অনুষদে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চালু করা হয়। ১৯৭১ সালে ১২জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাবি’র উদ্বোধন করেন। ১৯৭০ সালে ২৪ সেপ্টেম্বরে প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হয় অধ্যাপক মফিজউদ্দিন। ১৯৭৩ সালে মুঘল আমলে ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর নাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

 বাংলাদেশের স্বায়ত্বশাসিত প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাবি হচ্ছে ক্ষুদ্রতম। কিন্তু বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুক্তিযুদ্ধ, এরশাদ আমলে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৯০ সালের স্বৈরচার বিরোধী গণঅন্দোলন এমনকি ১৯৯৮ সালের ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ও রুখে দাড়ায়। মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়ে জাবি অনেক সমৃদ্ধ। উয়ারী ও বটেশ্বর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খনন দেশীয় নাট্যচর্চায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অবদান; নৃবিজ্ঞান চর্চায় নৃবিজ্ঞান বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শন সুবিদিত।

 কলা ও মানবিকী, গানিতিক ও পদার্থ বিষয়ক, সমাজবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান,  ব্যবসায় শিক্ষা, আইন অনুষদে ৩৪টি বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম যিনি বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন। জাবি’তে ৬জন ডিন, ৭৫৫জন শিক্ষায়তনিক ব্যক্তি, ১৬,৭৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার, সংশপ্তক, অমর একুশ ও বিভিন্ন সরণী রয়েছে। এখানে বর্তমানে ১৬টি আবাসিক হল রয়েছে। জাবি’তে ২০১৫ সাল থেকে শীত কালে হিম উৎসব পালিত হয়। ওয়েবসাইট – http://www.juniv.edu

5. চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)

বাংলাদেশের স্তরের তৃতীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষিপ্ত চুয়েট। ১৯৬৮ সালে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম শহরের উপকন্ঠে রাউজান উপজেলার পাহারতলী এলাকায় ১৬৯ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যা চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৫কি.মি দূরে। 

 চুয়েটের ইতিহাস, অনুষদ, গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব নাম ছিল প্রকৌশল কলেজ চট্টগ্রাম, পরে নাম হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম। ২০০৩ সালে এর নাম হয় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৫০০এর বেশি শিক্ষায়তনিক ব্যক্তি দু’শর বেশি। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। 

 স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা ও অংশগ্রহন করে। 

 প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর চুয়েট ক্যাম্পাসটির অভ্যন্তরে একটি প্রকৃতিক হ্রদ,কয়েকটি পাহাড় ও গাছগাছালি রয়েছে। ক্যাম্পাসটির নিজস্ব ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, ওয়ার্কশপ,গবেষণাগার,৫০০ আসনের মিলনায়তন,শহীদ মিনার, কনফেশনারি ও  ২০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার যার নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। 

 চুয়েটের দোতালা গোলাকার গ্রন্থাগারটি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রে অবস্থিত যা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করার মতো ব্যবস্থা করা। রেফারেন্স জার্নালের ব্যাপক সংগ্রহ আছে সাথে ৫টি ভিন্ন পত্রিকার ব্যবস্থা। ইন্টারনেট সহ পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্পিউটার। এছাড়া তাদের আছে নিজস্ব ৭টি বাস।

 চুয়েটে বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ১৫টি বিভাগ ২টি ইনস্টিটিউট এবং ৩টি সেন্টার। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছয়টি আবাসিক হল রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে সমাবর্তন শুরু হয়। ২০১৬ সালে ৩য় সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওয়েবসাইট http://www.cuet.ac.bd

6. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি, আরইউ)

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে  রাবি, আরইউ। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই রাজশাহী শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরইউ। প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও ঢাকা রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত যা শহর থেকে ৫কি.মি. দূরত্বে মনিহার শহরে ৭৫৩ একর জমি নিয়ে আছে। 

   রাবি’র ইতিহাস, অনুষদ, গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

১৮৭৩ সালে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষার উন্নয়ন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল রাজশাহী কলেজ। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশ বিভগ হলে পাকিস্তান সরকার দেশের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের আগে থেকে রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয় রাজশাহী শহরের ভুবন মোহন পার্ক। ১৫জন ছাত্রনেতা কারারূদ্ধ হয়। মাদার বখস সরকারকে হুশিয়ার করে তার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আরইউ। ১৬১শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। 

১৯৬৭ সালের ১৮ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ড.শামসুজ্জোহা নিজের প্রাণ দিয়ে রাবি’র নাম স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসের পাতায় যুক্ত করে দেন। সকল বাঙালি অধ্যাপক শামসুজ্জোহাকে তাদের মনে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন।

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে  আবাসিক হল, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা (এদেশের প্রথম স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর), সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্য, জুবলী টাওয়ার তিনটি সাংবাদিক সংগঠন, ১৫টি সক্রিয় সংগঠন নিয়ে সাংস্কৃতিক জোট দুটি বির্তক সংগঠন, বিখ্যাত একটি মুট কোর্ট ও হায়ার স্টাডি ক্লাব আছে শিক্ষার্থীদের জন্য । সহায়ক হিসেবে আছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার,  বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরী, কম্পিউটার ল্যাব, কম্পিউটার সেন্টার। 

 রাবি’তে সর্বমোট ১১টি অনুষদের অধীনে ৫৯টি বিভাগ আছে ।রাবি’র অধিভুক্ত ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টি সরকারি এবং ২৪ টি বেসরকারি। উচ্চতর গবেষণার জন্য ৫টি ইনস্টিটিউট আছে। ছাত্রদের ১১টি হল ও মেয়েদের ৬টি হল মিলিয়ে মোট ১৭টি হয় ও একটি আন্তর্জাতিক মানের ডরমেটরি আছে। ১৯৫৩ সালে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালে একাদশ সমাবর্তন পালন করে যেখানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মণি।

  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনস্টাইনের আলোর গতির তত্ত্বের যথার্থতা নিয়ে আলোড়নের সৃষ্টি করে রাবি। ওয়েবসাইট – http://www.ru.ac.bd

7. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়( সাস্ট, শাবিপ্রবি)

বাংলাদেশের স্তরের চতুর্থ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যা সাস্ট বা শাবিপ্রবি নামে পরিচিত।  এটাই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় যা আমেরিকান শিক্ষা ব্যবস্থা অর্জন করে। বাংলাদেশের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় শাবিপ্রবি। 

অর্জন, চর্চা, সৃষ্টি নীতি নিয়ে ১৯৮৬ সালে সিলেট শহরে প্রতিষ্ঠিত শাবিপ্রবি বাংলাদেশের সর্বাধিক উঁচু এবং এশিয়ার অন্যতম বড় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দশ হাজারের ও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী, ৭জন ডিন, ১৪৬৮ জন শিক্ষায়তনিক ও ৫০২ জন প্রশাসনিক ব্যক্তি আছে বিশাল এ ক্যাম্পাসে। শহর থেকে ৫কি.মি দূরে কুমারগাঁও আখালিয়ার ৩২০ একর জমিতে অবস্থিত যার একাডেমিক ভবন ২৮টি। বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

 শাবিপ্রবি’র ইতিহাস,অনুষদ, গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল শাস্ত্রে বিশেষ অবদান প্রদানকারী ও বাংলাদেশ নেতৃত্ব স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনটি বিভাগ নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। সর্বোচ্চ সংখ্যক গবেষণাপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে ওয়েবমেট্রিক্স র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি খুব ভালো অবস্থান দখল করে আছে। সাস্ট শিক্ষার্থীরা সংস্কৃত চর্চা ও নতুন গবেষণায় বেশ উদ্যমী। বাংলাদেশের একমাত্র অনুসন্ধান ইঞ্জিন ‘ পিপীলিকা’ ২০১৩ সালে শাবিপ্রবির বদৌলতে পায় যা এখনো তথ্যসেবা দিচ্ছে। 

 বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১০ সালে দক্ষিণ এশীয়ার দেশসমূহের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার জন্য  Ambillion পুরষ্কার, E- content এর জাতীয় পুরষ্কার এবং উন্নয়নমূলক কর্মের জন্য আইসিটি পুরষ্কার ২০১০ লাভ করে। 

 শাবিপ্রবি’তে ৬টি অনুষদের অন্তর্ভুক্ত  আছে ২৮টি বিভাগ। এছাড়া ৮টি অনুষদ গড়ার সিদ্ধানত নেয়া হচ্ছে। পদার্থ ও পরিসংখ্যান শাস্ত্রের গবেষণার সাথে এর রয়েছে কতগুলো প্রসিদ্ধ ইনস্টিটিউট । ৫টি কলেজ রয়েছে চিকিৎসা অনুষদের অধীনে।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৫টি ছাত্রাবাস আছে যার তিনটি ছেলেদের দুটি মেয়েদের। শিক্ষকদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক সুবিধা আছে। দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থী ও স্টাফদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই ব্যবস্থা আছে। লক্ষাধিক বই, জার্নাল,  নিবন্ধ, অডিও ভিজ্যুয়ালে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার শাবিপ্রবি’র। যা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। ওয়েবসাইট http://www.sust.edu

8. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (সিইউ, চবি)

বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম ও সরকারি বহু অনুষদ ভিত্তিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে সিইউ বা চবি। ১৯৬৬সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারি উপজেলায় ২,১০০ একর জমিতে স্থাপিত চবি আয়তনের দিক থেকে সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কি.মি উত্তরে ফতেহপুর ইউনিয়নের ষজঙ্গল পশ্চিম পট্টি মৌজার পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। 

এখানকার প্রাক্তন শিক্ষার্থী -শিক্ষক শিক্ষাগ্রহণ ও অধআপনা করেছে যার মধ্যে একজন নোবেল বিজয়ী, একাধিক একুশে পদক প্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

২০২০ সালের হিসাবে দেশে চবির অবস্থান ৯ম। ২৭,৮৩৯ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষায়তনিক ৮৭২ এবং প্রশাসনিক ৩১১জন ব্যক্তি নিয়োগ আছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। বর্তমানে চবি’র অধীনে ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

চবি’র ইতিহাস, অনুষদ,গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

  বিশ্ব শতাব্দীর শুরুর দিকে চট্টগ্রামে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছিলনা। ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নকালে বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। অনেক বাধা বিপত্তি আন্দোলনের পরে ১৯৬৪ সালে আগস্টে আইয়ুব খান চবি’র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের  বাস্তকলা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ বছর পূর্বে চালু হওয়া চবি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেন বীর প্রতীক খেতাব পান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য।

 ১৯৭৩ সালে মধ্যযুগের চারটি কামান নিয়ে চবিতে জাদুঘর চালু হয় যাতে ৫ টি গ্যালারি আছে। এখানে প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর, সমুদ্র সম্পদ জাদুঘর, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। এছাড়া ১২টি আবাসিক হল, ক্যাফেটেরিয়া, চবি সাংবাদিক সমিতি, মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।  কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে দৃষ্টি নন্দন পাহাড়ি ঝরণা, কাটাপাহাড় বাণিজ্য অনুষদের পেছনে ফরেস্ট্রি এলাকাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিবেশে ছোট আকারের লালচে বাদামী পিঙ্গল রংয়ের মায়া হরিণ দেখে মন ভরে যাবে।

  বর্তমানে চবিতে দশটি অনুষদের অধীনে ৫৪টি বিভাগ, সাতটি ইনস্টিটিউট এবং ছয়টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। চবি’র কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার। যা দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে এর সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ যার মধ্যে বিরল বই, জার্নাল, অডিও ভিজ্যুয়াল উপাদান, পাণ্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই আছে।  এখানে আটটি সাংস্কৃতিক, চারটি বিজ্ঞান, সাতটি রাজনৈতিক ও ছয়টি বিবিধ সংগঠন রয়েছে। 

১৯৯৪ সালে চবিতে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সমাবর্তন হয় ২০১৬ সালে ৩১জানুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়তের জন্য ১০টি বগি বিশিষ্ট দুটি শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন ডেমু ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ওয়েবসাইট – www.cu.ac.bd

9. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে ১৯৬১ সালে গড়ে উঠা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে বাকৃবি নামে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।  বাকৃবি বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রের একটি উচ্চতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা কৃষি বিদ্যার সমস্ত শাখাকে আচ্ছাদন করে আছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কৃষিবিদ, প্রাণিবিদ এবং প্রযুক্তিগত ও তাত্ত্বিক জ্ঞান যুক্ত প্রযুক্তিবিদ সহ অনেকগুলো কৃষি বিষয় সম্পর্কে দক্ষতার বিকাশ ঘটানো। ২০১৩-১৪ সালের জন্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেটের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাকৃবি।

প্রায় ১২০০ একর জমি নিয়ে ময়মনসিংহ শহর থেকে ৪কি.মি. দক্ষিণে অর্থাৎ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত বাকৃবি। আর বাকৃবি’তে বর্তমানে ৪২৯৬ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষায়তনিক ৫৩০জন ও ৬জন ডিন রয়েছে। বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। ২০১৭ সালে এক নাম্বার বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নাম করে।

বাকৃবি’র ইতিহাস, অনুষদ, গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

ভেটেরিনারি ও কৃষি এ দুটি অনুষদ নিয়ে ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় নামে কার্যক্রম চালু করে। পরে নাম বদলে রাখা হয় স্বাধীন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরেই পশুপালন অনুষদ, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ এবং মৎস বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত হয়।

বাকৃবি’তে প্রশাসন ভবন, অনুষদীয় ভবন,জিমেশিয়াম,স্টেডিয়াম,স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং মসজিদ নিয়ে চিত্তাকর্ষক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এখানে একটি মিলনায়তন রয়েছে যা প্রায় ২০০০আসনের এছাড়া রয়েছে ড. ওয়াজেদ মিয়া নামে একটি ডরমিটরি। ছাত্রছাত্রীদের জন্য  তেরটি আবাসিক হল রয়েছে। বাকৃবি’তে  ছয়টি অনুষদের অধীনে একচল্লিশটি বিভাগ আছে। ঊনিশটির মতো বিভিন্ন সংগঠন ও ছয়টি ছাত্র সংগঠন আছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শস্যের জাত উৎপাদন, মোরগ-মুরগি,হাঁস, গরু ও মহিষের খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ভ্যাকসিন উন্নত জাতের উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ওয়েবসাইট- http://www.bau.edu.bd

10. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (কেইউ,খুবি)

 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খুলনার ময়ূর নদীর পাশে গোল্লামারীতে ১০৫.৭৫ একর জমিতে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে একমাত্র ছাত্র রাজনীতি মুক্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাথমিক ভাবে এটা চারটি বিষয়ে আশি জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২৫ নভেম্বর ১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করে। এখানে পড়শোনা পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।

বর্তমানে কেইউ’তে ৫৬১৬ জন শিক্ষার্থী শিক্ষায়তনিক ৪১০জন এবং প্রশাসনিক ৫২৯ জন ব্যক্তিবর্গ রয়েছে। উপাচার্য ড. মো: ফায়েক উজ্জামান। রাজনীতি মুক্ত পরিবেশে পড়তে চাইলে এটাই সর্বোত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম মুক্ত।

  কেইউ’র ইতিহাস, অনুষদ, গ্রন্থাগার ও সমাবর্তন

  ১৯৭৪ সালে ড. কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে খুলনা বিভাগে উচ্চ শিক্ষার্থে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন।  ১৯৮৬ সালে ১৬ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেইউ’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। 

১ লা আগস্ট বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকল্প পরিচালক পরে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯০ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদে পাস হয় যা প্রতিষ্ঠানের কার্যবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ২৫নভেম্বর একাডেমিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

 বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীনে ২৮টি ডিসিপ্লিন ও একটি ইনস্টিটিউন আছে। চার বছর মেয়াদী ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রী প্রদানেল ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ বাংলাদেশের মাঝে এক অগ্রদূত। এখানে মর্ডান ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার রয়েছে যেখানে ইংরেজি,জাপানি,ফরাসি,ফার্সি,স্প্যানিশ, কোরিয়ান ও জার্মান ভাষার সার্টিফিকেট কোর্স প্রদান করে। সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য মিলিয়ে ১৮টি সংগঠন রয়েছে।

 কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শার্লি ইসলাম গ্রন্থাগার ভবন ও একাডেমিক ভবন আছে তিনটি। চারটি আবাসিক হল ছাত্রছাত্রীদের জন্য, রেজিস্টার ভবন কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়া, মেডিকের সেন্টার, জিমনেসিয়াম, পোস্ট অফিস ভবন, টিচার্স কোয়ার্টার ও ডরমিটরি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কার্য ও কটকা মন্যুমেন্ট রয়েছে। লাইব্রেরি কক্ষের মেঝেতে ৫০০০ বর্গফুট রিডিং রুম ১২৫ জন শিক্ষার্থী  ২৫জন শিক্ষক ও গবেষণা পণ্ডিত একসাথে কাজসকরতে পারে। ২৩০০০ বই, ২০০টি জার্নাল সহ ২৫০০০ পাঠ্য উপকরণের সংকলন আছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি ওয়াইফাই হটস্পট। ওয়েবসাইট http://www.ku.ac.bd

  শেষকথা:

বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জহরলাল নেহেরূ বলেছেন, ‘ একটি দেশ ভালো হয় যদি সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো হয়।’ ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারার মানে হলো নিজের স্বপ্নের পথে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া। তাই বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলো দেখে যদি আপনি সেগুলোতে নিজে বা আপনজনদের ভর্তি করতে চান, অথবা ভ্রমণে আগ্রহী হোন এবং আসলেই যদি জানতে চান এ প্রতিষ্ঠান গুলো অতীতে কতরকমের ভূমিকা রেখেছে বিভিন্ন আন্দোলনে তাহলে অবশ্যই যেতে পারেন।

 

   Explore More:

কারা খেলেছিল পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ

পৃথিবীর-সবচেয়ে-ছোট-১০-দেশ

বাংলাদেশের সেরা ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়