কারা খেলেছিল পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ


মান্না দে’র সেই বিখ‍্যাত গানের কলি থেকেই বোঝা যায় বাঙ্গালীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে ফুটবল উত্তেজনা। গানের প্রথম দুটি লাইনেই তার পরিচয়-

“সব খেলার সেরা বাঙ্গালীর তুমি ফুটবল” 

ফুটবলপ্রেমীদের সেই বছর সেরা বিশ্বকাপের টান টান উত্তেজনার কথা একটু না বললেই নয়। কিন্তু যেই ফুটবলকে ঘিরে পাড়ার মাঠের এতো ঝগড়া, দল নিয়ে যত দলাদলি, ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা কোন দল কয়টা গোল খেলো এসব হরহামেশা মিডিয়া পাড়াতে এবং পত্রিকার বিনোদন এর অংশে তুমুল ঝড় তুলছে। 

তখন এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটির পেছনে যাদের অবদান এবং কারাই বা প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা নিয়ে কি আমরা কখনও ভেবে দেখেছি। 

আজ সেই সেরা সাতজন ফুটবলার সম্পর্কেই জানবো যারা সর্বপ্রথম ফুটবল খেলার ময়দানে তুমুল ঝড় তুলেছিল। আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক কারা খেলেছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ

কবে কোথায় শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপের যাত্রা?

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ছেলে থেকে বুড়ো সবার মনে’ই রয়েছে একটি উত্তেজনার প্রভাব।বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর যাত্রাটা শুরু হয়েছিল একটু ভিন্নভাবে। ১৯০৪ সালে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঠিক পরেই ফিফা অলিম্পিকের আদল থেকে ভিন্ন একটি দল নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সুইজারল্যান্ড ১৯০৬ সালের প্রথম দিকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বয়স কম তার উপর খুব একটা জনপ্রিয়তা না থাকায় এটিকে ফিফা ব‍্যর্থ বলে আখ‍্যা দিয়েছেন। 

১৯৩০ সালের গোড়ার দিকে অলিম্পিক ই ছিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। 

কিন্তু ১৯৩২ সালে অলিম্পিকে আর ফুটবল থাকছেনা বলে এমনটাই জানান আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। অলিম্পিকের এই সিদ্ধান্তের উপর অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েই ফুটবলের মতো এতো বড় বিশ্বকাপের তোরজোড় শুরু হয়। 

প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে,উরুগুয়েতে যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ফিফা বিশ্বকাপ। ফিফা ১৯২৯ সালে বার্সোলোনার একটি বার্ষিক অধিবেশনে খেলাটির আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন উরুগুয়েকে। 

এর পিছনে একটি বিশেষ কারণও ছিল। উরুগুয়ে সেই বছর স্বাধীনতার শতবর্ষে পা দিয়েছিল এবং একই সাথে সফল ফুটবল দল হিসেবে ১৯২৮ সালে গ্রীষ্ম অলিম্পিকে ফুটবল শিরোপাও জিতেছিলেন। 

প্রতিযোগিতার বিবরণ

প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে স্বাগতিক দল হিসেবে ছিল উরুগুয়ে। খেলা শুরু হয় ১৩ ই জুলাই শেষ হয় ৩০ শে জুলাই। কারা কারা ছিল সেই কালজয়ী প্রথম বিশ্বকাপে ?  

বিশ্বকাপের মাঠ কাপানো তুমুল উত্তেজনায় অংশগ্রহণ করেছিল সর্বমোট তেরটি দল। 

এর মধ‍্যে আমেরিকার ছিল ৯ টি এবং ইউরোপের ছিল ৪টি দল। বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম‍্যাচে অংশ নিয়েছিল দুটি দল ফ্রান্স ও মেক্সিকো। 

যাতে ফ্রান্স ৪-১ গোলে জয়ী হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম এর মধ‍্যে বেলজিয়াম কে যুক্তরাষ্ট্র হারায় ৩-০ গোলে যা ছিল ইতিহাসের পাতায় একটি স্বর্ণাক্ষরিক ম‍্যাচ। 

৯৩,০০০ হাজার দর্শকের সামনে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সেরা শিরোপার মুকুট মাথায় লাভের গৌরব অর্জন করে।

১) লুসিয়েন লরেন্টো (ফ্রান্স) 

লুসিয়েন লরেন্টো

লুসিয়েন লরেন্টো হচ্ছেন ফ্রান্স এসোসিয়েশন ফুটবল টিমের একজন নিয়মিত সদস‍্য। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১০ ই ডিসেম্বর, ১৯০৭ সালে, জন্মস্থান সেইন্ট মার ডেস ফুসেস 

 হয়ে ফুটবলের মাঠে প্রথম গোল করেন লুসিয়েন লরেন্টো। 

১৯২১ থেকে ১৯৩০ সালের মধ‍্যে তিনি একজন সেমি-প্রফেশনালিস্ট ফুটবলার হিসেবে তার যাত্রা শুরু করেন যেই প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল সার্কেল এথেলেটিক ডি প‍্যারিস। 

তার আগে লুসিয়েন লরেন্টো একটি গাড়ির কারখানা প‍্যায়গুইট একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একজন অদক্ষ ফুটবলার হিসেবে তিনি শুধুমাত্র কিছু বেসিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করেন। 

এস্টাডো পকিটস এর মন্টেভিডিও তে লরেন্ট মাত্র ১৯ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে লরেন্ট মেক্সিকোর বিরুদ্ধে প্রথম গোল করেন যা ছিল বিশ্বের ইতিহাসের সর্বপ্রথম গোল। 

যদিও পরবর্তীতে ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত পৌছাতে পারেন নি। তারপরও লরেন্স এর পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ অবদান রেখেছিলেন। 

জীবনের প্রথম খেলা ম‍্যাচটি সম্পর্কে পরে তিনি বলেছিলেন, ” মেক্সিকোর সঙ্গে ম‍্যাচ ছিল আমাদের। দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীত চলছিল বলে তুষার পড়ছিল। আমার এক সতীর্থ সেন্টার করল। আমি তখন সতর্কতার সাথে বলটার পথ অনুসরণ করলাম। ডান পায়ে সবার আগে বল করলাম। আমরা কিছু বুঝে উঠতেই পারলাম না যে ইতিহাস গড়া হয়ে গেল।” 

২) গিয়ের্মো স্তাবিলে (আর্জেন্টিনা)

গিয়ের্মো স্তাবিলে

১৭ ই জানুয়ারি ১৯০৫ সালে বিয়েনাস এয়ারস নামক স্থানে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন। গিয়ের্মো স্তাবিলে ছিল আর্জেন্টাইন প্রফেশোনাল ফুটবলার। 

তিনি ছিলেন একজন সেরা ফুটবলার। তখনকার বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের আগ্রহের পরিমাণ যতটা না ছিল তার চেয়ে ও অধিক পরিমাণে উৎসাহ বেড়ে গিয়েছিল গিয়ের্মোর পায়ের স্পিড দেখে। 

ক্লাব পর্যায়ে গিয়ের্মো দুটি ন‍্যাশনাল চ‍্যাম্পিয়নশীপ জয় করেছিলেন যা সংঘটিত হয়েছিল হুরাকেনে ইতালি এবং ফ্রান্সকে ঘিরে। তবে এসব কিছুর উর্ধ্বে গিয়ের্মো স্তাবিলের নাম বিশ্বের বুকে যেই কারণে উল্লেখিত হয়ে আছে তা ছিল প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে।

 একজন দলের ব‍্যবস্হাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনাকে ছয়টি বিজয় এনে দিয়েছিল যা দক্ষিণ আমেরিকান চ‍্যাম্পিয়নশীপ হিসেবে পরিচিত। 

১৯৪০-১৯৬০ সালে তিনি রেসিং ক্লাবের টিম ম‍্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্তাবিল ১৯৪১-১৯৫৭ আর্জেন্টিনার ছয়টি শিরোপা জেতার জন‍্যে একজন কোচ হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

৩) পেদ্রো সি ( উরুগুয়ে ) 

পেদ্রো সি

পেদ্রো সি এর পুরো নাম জোস পেদ্রো সি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯০০ সালে, উরুগুয়ের মন্টেভিডিও তে। কেরিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ উরুগুয়ের ক্লাবের খেলোয়ার।

 ক্লাবে থাকাকালীন সময়ে নেসিওনাল এর হয়ে বেশ কয়েকটি ফুটবল ম‍্যাচে জয়লাভ করেন। তার কেরিয়ারের সফলতা ছিল অধিক। তার জীবনের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু হয় ১৯২৩ সালে উরুগুয়ের চ‍্যাম্পিয়নশিপ দলের কোচ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকান চ‍্যাম্পিয়নশিপ লীগ খেলার মাধ‍্যমে। এরপর একের পর এক সফল টুর্নামেন্ট তিনি একাই জেতা শুরু করেন। 

পেদ্রো সি ১৯২৪ এবং ১৯২৮ উভয় বছরের অলিম্পিকে দুটি গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। ১৯৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় গোলদাতাদের একজন।

 প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমান গোলটি তিনিই দেন। খেলার ৫৭ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টাইন দলের সাথে সমান সমান(২-২) গোল করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ৪-২ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপের মুকুট নিজের মাথায় পরতে সক্ষম হন।

৪) বার্ট প‍্যাটেনড (আমেরিকা)

 

বার্ট প‍্যাটেনড

বার্ট প‍্যাটেনড পুরো নাম জোসেপ বার্টান্ড আর্থার প‍্যাটেনড। আমেরিকান সোকার খেলোয়ার হিসেবে এর জন্ম ৪ই নভেম্বর, ১৯০৯ সালে ফল রিভার এর মাসাচুসেটস আমেরিকায়। 

তার জীবনে ১৯২৮ সালে ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড ক্লাব(৮-০), ১৯২১ সালে জে এন্ড পি কোটস(১-০), (১৯২৮-১৯৩১) সালে ফল রিভার মার্কস‍ম‍্যান(১১৪-০), ১৯৩০ সালে নিউইয়র্ক আমেরিকানস, (১৯৩৩-১৯৩৪) সালে ফিলাডেলফিয়া জার্মান আমেরিকানস(৫-৭), (১৯৩৪-১৯৩৬) সালে সেন্ট লুইস সেন্ট্রাল ব্রিয়ারিস(০-০), ১৯৩৬ সালে ফিলাডেলফিয়া (২২-২৪) ক্লাব সিরিজ জয় করেন। 

কাপ চ‍্যাম্পিয়নশিপে প‍্যাটেনড (৫-০) ইয়ানকিস ছয় থেকে দুইটি প্রথম খেলায় জয়লাভ করেন। ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৩০ সালে বার্ট প‍্যাটেনড প্রথম ম‍্যাচে বেলজিয়ামকে (৩-০) গোলে হারায়।

 পরবর্তী ১৭ই জুলাই,১৯৩০ প‍্যারাগুয়ের বিপরীতে (৩-০) গোলে এবং ১৭ই আগষ্ট,১৯৩০ শেষের ম‍্যাচে ব্রাজিলকে (৩-৪) গোলে হারায়। তার ক‍্যারিয়ারের প্রথম সর্বোচ্চ সেরা গোলার হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন বার্ট প‍্যাটেনড।

৫) প্রেগুইনহো (ব্রাজিল) 

প্রেগুইনহো

প্রেগুইনহো ছিলেন ব্রাজিলের অন‍্যতম ফুটবলার, তিনি ৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯০৫ সালে ব্রাজিলের রিওডি জেনেরিওতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন ব্রাজিলের অন‍্যতম লেখক কোয়েলহো নেটো। তার ক‍্যারিয়ার জীবনে তিনি  প্রথম(১৯২৫-১৯৩৮) ফ্লুমিনেন্সে খেলেছিলেন এবং ১৮৪টি গোল করেছিলেন। 

১৯৩০ এর ফিফা বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের ন‍্যাশনাল টিমের হয়ে সর্বপ্রথম মাঠে নামেন। প্রথম ম‍্যাচে বিপক্ষ দলের হয়ে খেলেছিলেন যুগোশ্লাভিয়া সাথে (১-২) গোলের ব‍্যবধানে জয় লাভ করেন। 

পরবর্তী দুটি ম‍্যাচে (২-০) গোলে হারান বলিভিয়াকে। ইউনাইটেড স্টেটকে হারায় (৩-২) গোলে। তার ক‍্যারিয়ার জীবনে সর্বোচ্চ গোল ও তেজস্রী খেলার জন‍্যে তাকে ১৯৫২ সালে গ্রান্ডি বেনেমারিটো এ‍্যাটলিটা উপাধি প্রদান করা হয় কেননা তিনি একই সাথে ফুটবল, ভলিবল, বাস্কেটবল, ওয়াটারপোলো, সুইমিং, হকি, ট্রাক এবং ফিল্ড, ও অর্নামেন্টাল জাম্পস এ পারদর্শী ছিলেন। 

৬) পেরেগ্রিনো এনসেলমো ( উরুগুয়ে)

বিশ্বকাপের পেনালট্রির শিখরে যারা ছিলেন তাদের মধ‍্যে উরুগুয়ের পেরেগ্রিনো এনসেলমো একজন। তিনি ৩০শে এপ্রিল ১৯০২ সালে মন্টেভিডিও উরুগুয়েতে জন্মগ্রহণ করেন। পেরেগ্রিনো এনসেলমোর পুরু নাম হচ্ছে জুয়ান পেরেগ্রিনো এনসেলমো। তিনি ছিলেন একজন স্ট্রাইকার প্লেয়ার। 

একজন ফাস্টক্লাস প্লেয়ারের পাশাপাশি তিনি ছিলেন অলিম্পিকের(১৯২৮,আর্মসটারডাম) একজন গর্বিত সদস‍্য। তিনি তার ক‍্যারিয়ার জীবনে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে (১৯২২-১৯৩৫ ) সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৮০টি গোল করেন।১৯৩৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকা চ‍্যাম্পিয়ানশিপে বিজয়ী এবং ১৯২৭ সালে পেরুর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। 

২১ শে জুলাই ১৯৩০-এ পেরেগ্রিনো রোমানিয়া (৪-০) গোলে হারান।প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ ২৭ শে জূলাই ১৯৩০ এ যুগোশ্লাভিয়াকে (৬-১) গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এর জেরেই ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের ঘরে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা তাদের ঘরে ওঠে। 

৭) ইভান ব‍্যাক ( সার্বিয়া) 

ইভান ব‍্যাক ছিলেন প্রথম বিশ্বকাপের মাঝারি গোলারদের একজন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২৯শে অক্টোবর ১৯০৯ সালে, সার্বিয়ার বেলগ্রেডে। 

তার ক‍্যারিয়ার জীবনের শুরু হয় ১৯২৫ সালে বি.এস.কে বেলগ্রেডের ক্লাবের হয়ে খেলার মাধ‍্যমে। তার ক‍্যারিয়ারের গোল সংখ‍্যা সর্বমোট ১০৯টি। জাতীয় দলে ১৯২৭ ও ১৯৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে যুগোশ্লাভিয়ার হয়ে এককভাবে ৪টি এবং দলীয়ভাবে সর্বমোট সাতটি গোল করেন। 

১৯৩৫-১৯৩৭ এর পরবর্তী ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল করেন। বেক তার সর্বোচ্চ গোলের মাধ‍‍্যমে যুগোশ্লাভিয়াকে চতুর্থ স্থানে আসতে সাহায্য করে থাকেন। 

  • সর্বোচ্চ গোলকৃত খেলোয়ারদের লিকাতা
খেলোয়াড়ের নাম সর্বোচ্চ গোল সংখ‍্যা
১) গিয়ের্মো স্তাবিলে ০৮
২) পেদ্রো সি০৫
৩) গিয়ের্মো সাবিয়াব্রে০৪
৪) বার্ট প‍্যাটেন্ড ০৪
৫) কার্লোস পিউসিল ০৩
৬) প্রগুইনহো ০৩
৭) লুইস মন্টি০২
৮) আন্দ্রে মেশিনট ০২
৯) হেক্টর কাস্ট্রো০২
১০) বার্ট ম‍্যাকঘি০২
  • ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের বিতর্ক:

প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের বিতর্ক নিয়ে ছিল শীর্ষস্থানীয় খবর। দলের বল নিয়ে শুরু হয়েছিল তুমুল আলোড়ন কেননা আর্জেন্টিনা আর উরুগুয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ। 

ফুটবলের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক সাপে আর নেউলে। এই সাপে আর নেউলের সম্পর্ক দেখা দিল খেলার মাঠেও। আর্জেন্টিনা রাজী নয় উরুগুয়ের দেওয়া বল দিয়ে খেলার জন‍্যে। পরে দুই দলের মধ‍্যে আপস করা হয়। খেলার প্রথম অর্ধেক খেলা হয় আর্জেন্টাইন বল দিয়ে এবং পরের অর্ধেক খেলা হয় উরুগুয়ের বল দিয়ে। 

  • শেষ কথা 

ফুটবল বিশ্বকাপ পৃথিবীর এক আজব রঙ্গমঞ্চ। প্রতিদিন এখানে বিজয়ের বেশে প্রবেশ করে তো কেউ পরাজয়ের বেশে। এটি একদিকে যেমন আনন্দদায়ক, কষ্টকর আবার অন‍্যদিকে বেদনাদায়ক। 

কেননা প্রত‍্যেক বিজয়ীর বিপক্ষে এখানে ইতিহাস হয়ে লেগে পরাজয়ের বিভীষিকাময় গাঁথা। প্রত‍্যেক পরাজয়ের বিপরীতে এখানে মিশে থাকে সাফল‍্যের মতো তীব্রতর চিরচৈতন‍্যময় সাফল‍্য। কিন্তু বছর শেষে এই খেলার ময়দানে বীর থেকে পরাজিত সকলেই ফিরে আসে নতুন বেশে। 

পুরনো স্মৃতি ভুলে গিয়ে সবাই নতুনভাবে মাঠে থাকা সেই চিরচাঞ্চল‍্য ফ‍্যানদের উদ্দেশ্যে আবারও ফুটবলের মতো জাদুর মঞ্চে নতুনভাবে ফিরে আসে। প্রতি চারবছর ফিফার এই পুরো বিশ্ব কাপানো বিশ্বকাপ হেরে গিয়েও নতুন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠার শিক্ষাই আমাদের কে প্রদান করে। 

Explore More:

ইতিহাসে শীর্ষ সেরা দশ ক্রিকেটার

Recent Posts