পৃথিবীর সেরা দশটি বিপজ্জনক জায়গা ও তাদের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ‍্য


মানুষ স্বভাবতই কৌতূহল প্রিয়। এই বিশাল পৃথিবীর আনাচে-কানাচে রহস‍্য রোমাঞ্চের শেষ নেই। আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিসের সাথে পরিচিত হচ্ছি। 

ভ্রমণপিপাসু মানুষের সেই অজানাকে জানার আগ্রহ কিংবা রহস‍্যকে উৎঘাটনের কৌতূহল থেকে নতুন সব বিজ্ঞানের উদ্ভাবন আমরা আমাদের চারপাশে খুঁজে পাই। চোখের নিমিষে ঘটে যাওয়া কিছু অজানা রহস‍্যময় ঘটনার পেছনে আমরা ছুঁটে বেড়াই। 

অজানাকে জানা এবং রহস‍্যেঘেরা সেই অতলকে যদি মানুষ ছোঁয়ার চেষ্টা না করতো কিংবা সেই নেশাকে যদি মানুষ দমিয়ে রাখত, তাহলে হয়ত আজকের এই নতুন উদ্ভাবনী পৃথিবীর জন্ম হতো না। চারিদিকে আমরা এতো পরিবর্তন দেখতে পেতাম না। 

এই গোটা পৃথিবীর সর্বত্র জুড়ে কিছু রহস‍্যময় জায়গা রয়েছে যেগুলো খুবই বিপজ্জনক। ভ্রমণের সময় এধরণের জায়গা এড়িয়ে চলাই ভালো। চলুন তবে জেনে নেই উল্লেখযোগ্য  দশটি রহস‍্যময় ও বিপজ্জনক জায়গা যা আমাদের অনেকেরই অজানা : 

  • পৃথিবীর সেরা দশটি বিপজ্জনক জায়গা 

গোটা পৃথিবীটা যেমন কমলালেবুর মতো গোল তেমনি এই পৃথিবীর চারপাশ জুড়ে রহস‍্যের সীমা নেই। রহস‍্যেঘেরা সে সমস্ত জায়গার মধ‍্যে পৃথিবীর সেরা দশটি বিপজ্জনক জায়গা নিচে এক নজরে দেখে নেই চলুন- 

১) হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র 

২) আকাপুলকো, মেক্সিকো

৩) ডেথ ভ‍্যালি, যুক্তরাষ্ট্র 

৪) ডানাকিল মরুভূমি, ইরিত্রিয়া 

৫) র্বোনিও, মালয়েশিয়া 

৬) মাউন্ট ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র 

৭) মাদাগাস্কার, আফ্রিকা

৮) সিনাবাং আগ্নেয়গিরি, ইন্দোনেশিয়া 

৯) কায়রো, মিশর

১০) মাদিদি ন‍্যাশনাল পার্ক, বলিভিয়া 

চলুন তবে জানা যাক এদের বিপজ্জনক হবার কারণসমূহ : 

১) হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য স্থানটির মধ‍্যে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ অন‍্যতম। হাওয়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ তম অঙ্গরাজ‍্য হিসেবে এটি তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে। এর রাজধানীর নাম হনুলুলু।  

ভ্রমনপিপাসু মানুষের কাছে হাওয়াই দ্বীপ একটি রহস‍্যেঘেরা জায়গার মধ‍্যে একটি। তবে এটি বিশ্বের অন‍্যতম বিপজ্জনক স্থানগুলোর মধ‍্যে অধিক জনপ্রিয়। কেননা এধরণের জায়গায় প্রচুর পরিমাণে অগ্ন‍্যুৎপাত হয়ে থাকে। এধরণের আগ্নেয়গিরির জন‍্যে এটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন‍্যে অধিক বিপজ্জনক। পৃথিবীর সবচাইতে সক্রিয় দুটি আগ্নেয়গিরির মধ‍্যে একটি হাওয়াইতে অবস্থিত। এ ধরণের আগ্নেয়গিরির তাপমাত্রা ৪৫-৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের ও উপরে হয়ে থাকে। তাই ভ্রমণের আগে এধরণের জায়গায় না যাওয়াই ভালো। 

২) আকাপুলকো, মেক্সিকো 

আকাপুলকো, মেক্সিকো

আকাপুলকো মেক্সিকো শহরটি প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে অবস্থিত। রাজনৈতিক দিক থেকে এটি ইরান, সিরিয়া, ও উত্তর কোরিয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ে এই শহরটিকে সহিংসতার রাজধানীও বলা হয়। এছাড়াও এ শহরে অবস্থিত সাদা বালিতে পূর্ণ সমুদ্র সৈকতটি পর্যটকদের কাছে অত‍্যধিক আর্কষণীয়। 

এ শহরের তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি যা ভ্রমণের জন‍‍্যেও অনুকূলে নয়। এটি মেক্সিকান শহর হতে ৩৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। সুতরাং ভ্রমণের জন‍্যে এধরণের জায়গা এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩) ডেথ ভ‍্যালি, যুক্তরাষ্ট্র 

ডেথ ভ‍্যালি, যুক্তরাষ্ট্র

ডেথভ‍্যালি শহরটি যুক্তরাষ্ট্রের ক‍্যালির্ফোনিয়ায় অবস্থিত। এই মৃত‍্যু উপত‍্যকাটি পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চলগুলোর মধ‍্যে একটি। গরমের সময় অধিক তাপমাত্রা থাকলেও এ অঞ্চলে পর্যটকদের ভীড় থাকে প্রচুর। 

প্রতি বছর নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসলেও বিপজ্জনক ভাবে এর স্থান তৃতীয়। এখানকার তাপমাত্রা মধ‍্যপ্রাচ‍্যের  মরুঅঞ্চলকেও হার মানায়। এ অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা যেমন বেশি গড় বৃষ্টিপাত তার চেয়ে ও কম। এখানকার গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ১-৫ সেন্টিমিটার। 

৪) ডানাকিল মরুভূমি, ইরিত্রিয়া 

ডানাকিল মরুভূমি, ইরিত্রিয়া

কয়েকটি সক্রিয় মরুভূমির মধ‍্যে ডানাকিলের নাম সবার প্রথমে। এখানে একটি বা দুটি নয়, বেশ কয়েকটি সক্রিয় মরুভূমি রয়েছে। এ ধরনের আগ্নেয়গিরি হতে বিভিন্ন রকম বিষাক্ত গ‍্যাস নির্গত হয়ে থাকে। ভয়ংকর ভূ-প্রকৃতির কারণে এ ধরণের মরুভূমি পর্যটকদের কাছে অত‍্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। তাই যদি এখানে ঘুরে বেড়াতে চান তাহলে অবশ‍্যই স্থানীয় গাইডের সহায়তা নিন। 

৫) বোর্নিও, মালয়েশিয়া 

বোর্নিও, মালয়েশিয়া

বোর্নিও মালয়েশিয়ার মালয় দীপপুঞ্জে অবস্থিত। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এখানকার আর্কষণের জায়গা হচ্ছে বিচিত্র প্রজাতির বন‍্যশ্রেণীর জীবনযাত্রা। আর তাই প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে এই দ্বীপটি অত‍্যধিক আর্কষণের। তবে এটি বিপজ্জনক হওয়ার অন‍্যতম কারণ হচ্ছে স্থানীয়দের রাজনৈতিক প্রভাব যার জন‍্যে এ অঞ্চলে প্রায়শই পর্যটক হত‍্যা, অপহরণ, খুন ইত‍্যাদির মতো সহিংসতা প্রায়শই ঘটে থাকে। 

দ্বীপটির মোট আয়তন ৭৫১,১০০ বর্গকিলোমিটার ( ২৯,০০০ বর্গমাইল)। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪,০৯৫ মিটার। দ্বীপপুঞ্জটির ভালো নাম বৃহৎ সুন্দা দ্বীপপুঞ্জ। তাই হরহামেশা বিপদ এড়াতে চাইলে লোকাল পুলিশের সাহায্য নেওয়াই ভালো। রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে চাইলে সাথে রাখুন জরুরি হেল্পলাইন। 

৬) মাউন্ট ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র 

মাউন্ট ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র

মাউন্ট ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এ ধরণের পর্বতে বাতাসের পরিমাণ সবচাইতে বেশি। বৈরি আবহাওয়ার কারণে বাতাসের গতি এত তীব্র যে সাধারণ মানুষের পক্ষে এ ধরণের জায়গায় টিকে থাকা অনেক কষ্টদায়ক। প্রচন্ড বাতাস ও জনাকীর্ণতার জন‍্যে এ ধরণের আবহাওয়াপূর্ণ অঞ্চলে বিপদের আশঙ্কা ও অন‍্যান‍্য বিপজ্জনক জায়গার তুলনায় অধিক।

 মাউন্ট ওয়াশিংটন কে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভয়ানক পর্বতচূড়া বলা হয়ে থাকে। গরমকালে পাহাড়ধ্বস এবং শীতকালে প্রচন্ড তুষারপাতের কারণে এ ধরণের স্থান যে কোন ঋতুতেই ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে আপনার জন‍্যে। 

যদিও এ ধরণের পর্বতের উচ্চতা খুব বেশি নয়। সর্বোচ্চ ৬,২৮৮ ফুটের মতো লম্বা হয়ে থাকে। তবে স্কেটিং ও বরফের বৃষ্টি দেখতে ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রতিবছর এখানে ভীড় জমায়। 

৭) মাদাগাস্কার, আফ্রিকা 

মাদাগাস্কার, আফ্রিকা

মাদাগাস্কার আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপমহাদেশে অবস্থিত। এর নাম মালাগাসিও। এটি একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। আন্তানানারিভো আফ্রিকার একটি রাজধানীর নাম। মাদাগাস্কারের লোকজনের কাছে একজন জীবিত মানুষের চেয়ে একজন মৃত মানুষের গুরুত্ব সর্বাধিক। ভিন্ন জীবনধারায় পরিচালিত এধরণের দ্বীপের একটি ছোট্ট পর্যটনশিল্প হিসেবে এর গুরুত্ব সর্বাধিক। 

আফ্রিকা মহাদেশে যতগুলো দেশ রয়েছে সেগুলোর মধ‍্যে মাদাগাস্কার অন‍্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রটিতে রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকলেও রয়েছে ছিনতাই, খুন, অপহরণ, ডাকাতির মতো অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ড। যার জন‍্যে অনেক ক্ষেত্রেই পর্যটকগণ এখানে ঘুরতে এসে ঝুঁকির মধ‍্যে পরেন। তাছাড়াও এ শহরটিতে রয়েছে মহামারী প্লেগ রোগের মতো ভয়ংকর রোগের প্রবনতা যার জন‍্যে এ ধরণের জায়গা এড়িয়ে চলাই ভালো। 

৮) সিনাবাং আগ্নেয়গিরি, ইন্দোনেশিয়া 

সিনাবাং আগ্নেয়গিরি, ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত সিনাবাং আগ্নেয়গিরি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন‍্যে অনেকেই এটি পরিদর্শন করে থাকেন। তবে এ ধরণের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির থেকে অগ্ন‍ুৎপাতের কারণে অতীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার জনপদ। তাই এখানে ভ্রমণ করতে চাইলে আগে থেকেই নিতে হবে বাড়তি নিরাপত্তা। সিনাবাং আগ্নেয়গিরি হতে নির্গত হওয়া অগ্নুৎপাতের লার্ভা মিনিটে একটি ৩৬,০০০ বর্গমাইল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পরতে সক্ষম। 

দীর্ঘ চার বছর ঘুমিয়ে থাকার পর ২০১৬ সালে এটি আবার পুনজ্জীবিত হয়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখ থেকে জানা যায় যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা পযর্ন্ত ছড়িয়ে পড়া এই অগ্নুৎপাত এর সাথে যুক্ত হয়েছিল বিকট শব্দ। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। আর তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এ ধরণের জায়গা থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই মঙ্গল। 

৯) কায়রো, মিশর 

কায়রো, মিশর

মিশরের রাজধানী কায়রোর ঐতিহাসিক স্থানগুলো তে প্রতি বছর বছর ভীড় জমায় হাজারো পর্যটক। তবে কায়রো শহরে মেয়েদের ভীড় সবচাইতে বেশি বলে এ ধরণের জায়গাকে কিছুটা বিপদসংকুলও বলা চলে। যদিও দেশটির নারী অধিকারের কর্মীরা এটিকে নারী অধীকার লঙ্ঘন ই বলে অভিহিত করে থাকেন। 

১0) মাদিদি ন‍্যাশনাল পার্ক, বলিভিয়া 

মাদিদি ন‍্যাশনাল পার্ক, বলিভিয়া

মাদিদি ন‍্যাশনাল পার্ক বলিভিয়ার উত্তর পশ্চিম দিকে অবস্থিত। ৪৭ লাখ জায়গা জুড়ে এই রেইন ফরেস্ট অঞ্চলটি অবস্থিত। নানা ধরণের বিচিত্র প্রাণির বাস এই ভয়ঙ্কর বনটিতে। তাই এখানকার আবহাওয়া পরিবেশেও রয়েছে কিছু বিষাক্ত ও তিক্ত প্রভাব। এ বনে রয়েছে নানা প্রজাতির বিষাক্ত প্রাণী, ব‍্যাঙ্, সাপ, টিকটিকি, মাছি, বিছা, আরশোলা প্রভৃতি। তাই এই স্থানটি বরাবরই বিপদজনক ও ভয়ানক। তাই ভ্রমণের আগে অবশ‍্যই এ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। 

  • রহস‍্যে ঘেরা আরও কিছু ভয়ানক জায়গা 

পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে মানুষের প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ। তার পেছনেও রয়েছে অনেক ধরণের কারণ সেটা ঐতিহাসিক, সামাজিক কিংবা বিপদের আশঙ্কারও হতে পারে। এখানে থাকছে সেসব নিষিদ্ধ এলাকার তালিকা। এখানে সাধারণ মানুষের অনুপ্রবেশ বিপদজনক বলে গণ‍্য করা হয়। তাই এ সমস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের যাওয়া আসা একেবারেই কম। উপরের দশটি বিপদজনক এলাকার মতো নিচের এলাকাগুলো ও অধিক ভয়ানক। জায়গাগুলো হচ্ছে – 

  • স্ডালবার্ড সিড ভল্ট- 

স্ডালবার্ড সিড ভল্ট হচ্ছে নরওয়ের একটি অতি প্রয়োজনীয় জায়গা। এটি নরওয়ের প্রত‍্যন্ত একটি দ্বীপ। এখানকার সুরক্ষা ব‍্যবস্থা চরম। ভল্ট প্রায় ১২০ মিটার লম্বা। এখানে পৃথিবীর প্রায় সবরকম বীজের সংরক্ষণ করা হয়েছে যদি ভবিষ্যতে খাদ‍্য সংকট দেখা দিলে তা যেন ব‍্যবহার করা যায়। 

  • এক নম্বর এয়ারফোর্স- 

এই এয়ারফোর্সটি পৃথিবীর অন‍্যতম একটি গোপনীয় স্থান। পৃথিবীতে কারোর এখানে প্রবেশের অধিকার নেই। কেউ জানেই না ওই বিমানের ভেতরটি আসলে কিসে পরিপূর্ণ। খুবই উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন এই বিমানটির ভেতরে থাকতে গেলে আমেরিকার রাষ্ট্রপতির সুরক্ষা ব‍্যবস্থার তালিকায় এক বছর থাকতে হয়।

  • স্নেক আইল‍্যান্ড- 

এটিকে সাপের দ্বীপ ও বলা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের বাস এই দ্বীপে। এই ধরণের সাপের বিষ এতটাই বিষাক্ত যে মানুষের মাংস পর্যন্ত গলিয়ে ফেলতে সক্ষম। এরপরও যদি আপনি ভয় না পান তবে আপনি আর কিসে ভয় পাবেন তা এক সৃষ্টিকর্তা ই ভালো জানেন। 

  • কোকা-কোলা ভল্ট- 

কোকা কোলা ভল্ট এই জায়গাটিতেও সাধারণ মানুষের অনুপ্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোকা-কোলা তৈরির কিছু  গুপ্ত ফর্মুলা রাখা আছে এর মধ‍্যে। তাই এই জায়গাটিও সবার কাছে সর্বাধিক রহস‍্য ও রোমাঞ্চ এ পরিপূর্ণ।

  • ফোর্ট নক্স- 

আমেরিকায় অবস্থিত এই জায়গাটি সবার অধিক সন্দেহপ্রবণ একটি স্থান। এখানে আমেরিকা সব মূল‍্যবান জাতীয় সম্পদ সংরক্ষিত আছে। প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন‍্য দ্বারা পাহারায় ঘেরা এই জায়গাটিতে একটি মাছির অনুপ্রবেশও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • গোল্ড ভল্ট- 

ব‍্যাঙ্ক অফ ইংল‍্যান্ড সোনা রাখার এই দেরাজটিতে প্রায় পাঁচ হাজার টন সোনা বরাদ্দ করা আছে। এখানে প্রবেশ করতে গেলে বোমরোধক একটি একটা দরজা পেরোতে হয়। সেটা পার হবার জন‍্যে আপনাকে অবশ‍্যই উচ্চমান সম্পূর্ণ কন্ঠস্বর ব‍্যবহার করতে হবে।

  • রুম -৩৯”-রুম ৩৯” কে- 

রুম ৩৯ কে কোর্ট অফ ইকোনমি বলেও অ‍্যাখ‍্যা দেওয়া হয়ে থাকে। এই জায়গাটির উৎপত্তি ১৯৭০ সালে। উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের জন‍্যে সব বিদেশি মুদ্রার কেনাকাটা এখানে করা হয়ে থাকে। 

শেষ কথা: 

পৃথিবীর সেরা দশটি বিপজ্জনক জায়গা গুলো থেকে যতবেশি সাবধানে থাকা যাবে ততই ভালো। কেননা কথায় আছে, ” সাবধানের মার নেই”। তাই এসব জায়গা থেকে আগে থেকেই সাবধান হয়ে যাওয়াই মঙ্গলের। 

চোখের দৃষ্টিতে যেটা অধিক আর্কষণীয় তা অনেক ক্ষেত্রে সুখকর না ও হতে পারে। সারাবিশ্বের আনাচে কানাচে হরহামেশা কত কিছুই না ঘটছে। সেসবের খবর কিছু আমাদের কানে আসলেও বেশিরভাগ খবরই আমাদের কাছে অজানা রয়ে যায়। 

গোটা বিশ্বের আকার যত বড় রহস‍্যের পরিমাণও তার চেয়ে অধিক। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না থাকলেও মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগত কিছু পরিবর্তন সর্বত্র। একজন বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে নিজের সবকিছু কে কিছু মানুষ গোপন রাখতে পছন্দ করে থাকেন আর তাই সেসব গোপন জিনিস হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে কৌতূহল ও রহস‍্যের জায়গা। 

ভ্রমণপিপাসু মানুষের সেই অদম‍্য ইচ্ছাকে জানাই সাধুবাদ। দিন দিন তা আরও বাড়ুক এবং অজানাকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলুক। 

Explore More:

পৃথিবীর সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র- জেনে নিন কিছু তথ্য

Recent Posts