পৃথিবীর সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র- জেনে নিন কিছু তথ্য


ঘুরতে কে না ভালোবাসে? আর গন্তব্যস্থল যদি হয় দেশের সীমানা পেরিয়ে সুদূর বিদেশে তবে তো কথাই নেই! 

যারা ভ্রমণপ্রেমী তারা দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরের বিভিন্ন পর্যটন স্থানেরও খোঁজখবর রাখেন। তাদের জানার সুবিধার্তে পৃথিবীর সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা করা হলো আলোচ্য প্রবন্ধে। 

পৃথিবীর সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র 

১) নিউজিল্যান্ডের লেইক টেকাপোঃ

 নিউজিল্যান্ডের লেইক টেকাপো

নিউজিল্যান্ড ওশেনিয়া মহাদেশের একটি রাষ্ট্র। এটি অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় প্রাণীর জন্য দেশটি বিখ্যাত। ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে নিউজিল্যান্ড একটি স্বপ্নের নাম। 

নিউজিল্যান্ডের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে লেইক টেকাপো অন্যতম। এটি একটি ছোট শহর যা দক্ষিণ দ্বীপে অবস্থিত। এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস হলো লেইক টেকাপো ভ্রমণের উত্তম সময়। এর চারপাশ ঘিরে অনেক গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ থাকার কারণে এই শহরটি অদ্ভুত এক নীল বর্ণে সজ্জিত হয়েছে যাকে বলা হয় টারকুইজ ব্লু। একে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। 

লেইক টেকাপোর একটি প্রধান আকর্ষণ হলো লুপিন ফ্লাওয়ার নামের ফুল। সাদা, গোলাপী ও বেগুনী বর্ণের এই ফুলগুলোকে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর ফুল মনে করা হয়। 

২) হাওয়াই এর মাওয়িঃ 

হাওয়াই এর মাওয়ি

হাওয়াই প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য। এটি একটি দ্বীপরাষ্ট্র যা ছোট-বড় সব মিলিয়ে মোট ১৩৭টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। বড় দ্বীপগুলোর অন্যতম হচ্ছে মাওয়ি। এটি হাওয়াই এর দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এর আয়তন ৭২৭.২ বর্গমাইল। 

মাওয়িকে ‘দ্য ভেলি আইল্যান্ড’ ও বলা হয়। সুন্দর সমুদ্রসৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় তার জন্য মাওয়ি বিখ্যাত। এছাড়াও এখানে আছে হালিয়াকালা আগ্নেয়গিরি এবং ওহিও জলপ্রপাত। 

এই দ্বীপে বিশেষ এক শ্রেণির ইউক্যালিপটাস গাছ জন্মায় যাকে রেইনবো ইউক্যালিপটাস বলা হয়। গাছের পাতাগুলো রংধনুর সাত রঙে সজ্জিত বলেই এমন নামকরণ হয়েছে যা দ্বীপের সৌন্দর্য আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। মাওয়ি ভ্রমণের সর্বোত্তম সময় হলো এপ্রিল থেকে মে ও সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস। 

৩) স্পেনের বার্সেলোনাঃ 

স্পেনের বার্সেলোনা

স্পেনের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত কাতালুনিয়া নামক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী হলো বার্সেলোনা। এর স্পেনীয় নাম বার্থেলোনা। এটি ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত স্পেনের বৃহত্তম বন্দর নগরী। এটি একটি প্রাচীন শহর। 

বার্সেলোনা ভ্রমণে গেলে টুরিস্টদের জন্য দেখার মত আকর্ষণীয় স্পটগুলো হচ্ছে- সাগ্রাডা ফেমিলিয়া (চার্চ), হসপিটাল দ্য সেন্ট পাও (হাসপাতাল), পার্ক গিল (উদ্যান), লা পেড্রেরা (ভবন), ক্যাসা বাটলো (বাসভবন), মুসিও পিকাসো (যাদুঘর), মুনাক (আর্ট গ্যালারি), সান্টা মারিয়া ডেল মার (চার্চ), ক্যাথেড্রাল (গথিক চার্চ) ও সিউটাট ভেলা (পুরনো টাউন)। 

বার্সেলোনা ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।  

৪) ইটালির ফ্লোরেন্সঃ 

ইটালির ফ্লোরেন্স

ইটালির তুস্কানি অঞ্চলের রাজধানী হলো ফ্লোরেন্স। রোমের উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে এ শহর অবস্থিত। রেনেসাঁ যুগের শিল্প ও স্থাপত্যের জন্য ফ্লোরেন্স বিখ্যাত। গ্যালিলিও, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো, দান্তে, মেকিয়াভেলির মত ব্যক্তিত্বরা ছিলেন এই শহরের বাসিন্দা।

ফ্লোরেন্স ছবির মতো সুন্দর ও সাজানো গোছানো পরিপাটি একটি শহর। খ্রীস্টপূর্ব ৫৯ সালে জুলিয়াস সিজারের আমলে শহরটির গোড়াপত্তন হয়। সারা শহর জুড়ে ছড়িয়ে আছে বড় বড় প্রাসাদ, শতাব্দী প্রাচীন ক্যাথেড্রাল ও মিউজিয়াম। ইউরোপীয় রেনেসাঁর আঁতুড়ঘর বলা হয় ফ্লোরেন্সকে। 

সুপ্রাচীন ভবনগুলোর চিত্রিত শিল্পশৈলীর দিকে তাকালে এ শহরের বাসিন্দাদের ধর্মীয়, শৈল্পিক, আর্থিক প্রাচুর্যের নিদর্শন অনুধাবন করা যায়। টেরাকোটার নকশা খচিত গম্বুজ বিশিষ্ট ক্যাথেড্রাল সান্তা মারিয়া দেল ফিয়োরে ও বেল টাওয়ার- এ দু’টো হলো ফ্লোরেন্সের সবচেয়ে আইকনিক ল্যান্ডমার্কগুলোর অন্যতম। 

আর্নো নদীকে বলা হয় ফ্লোরেন্সের প্রাণ। সারা শহর জুড়েই এটি বয়ে চলেছে। নদীতে রয়েছে নৌবিহারের সুযোগ। পন্টে ভিক্কিও হলো আর্নো নদীর উপর নির্মিত ইটালির সবচেয়ে পুরনো সেতু। 

৫) যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নঃ 

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

যুক্তরাষ্ট্রের এরিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি গিরিখাত হলো গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। এই গিরিখাতের মাঝ দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে। এটি দৈর্ঘ্যে ২৭৭ মাইল, প্রস্থে সর্বোচ্চ ১৮ মাইল এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ১ মাইলেরও অধিক। 

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে কলোরাডো নদী গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে কমপক্ষে ১৭ মিলিয়ন বছর পূর্বে প্রবাহিত হওয়া শুরু করে। তারপর থেকে এ নদীর প্রবাহ ও ভূমিক্ষয়ের মাধ্যমে ক্যানিয়নের বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক যেসব বিস্ময় যুগে যুগে মানুষকে মুগ্ধ করেছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন তার মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর ২০০ কোটি বছরের ইতিহাসের সাক্ষী এই ক্যানিয়ন। 

বর্তমানে ক্যানিয়নের বেশির ভাগ অংশই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দিককার জাতীয় উদ্যান। প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সংরক্ষণের ব্যাপারে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এখানে প্রায়ই শিকার ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসতেন। 

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দু’ভাগে বিভক্ত- উত্তর ও দক্ষিণ রিম। পর্যটকদের জন্য সারা বছর খোলা থাকে দক্ষিণ রিম। তবে গিরিখাতের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলো দেখা যায় উত্তর রিম থেকেই। বর্তমানে সেখানে হাভাসুপাই নামের একটি সম্প্রদায় বাস করে। তারা প্রায় ৮০০ বছর ধরে এখানে বাস করে আসছে এবং এই গিরিখাতকে তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটে বলে দাবী করে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাসের তথ্যভাণ্ডার ও স্থানীয় মানুষদের আবাসস্থল এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যুগ যুগ ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।  

৬) কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাতঃ 

কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত

নায়াগ্রা শব্দটি এসেছে Onguiaahra শব্দ থেকে। এর অর্থ জলরাশির বজ্রধ্বনি। জলপ্রপাতটি উত্তর আমেরিকার নায়াগ্রা নদীর উপর অবস্থিত। এটি আসলে পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি জলপ্রপাতের সমন্বয়ে গঠিত। এদের নাম- হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস, আমেরিকান ফলস এবং ব্রাইডাল ভিল ফলস। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত এই জলপ্রপাত।

পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত হলো নায়াগ্রা। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি একটি রোমাঞ্চকর স্থান। এখানে গেলে মনে হতে পারে আকাশ ভেঙ্গে জগতের সব বৃষ্টি বুঝি মাটিতে আছড়ে পড়ছে! এর তিনভাগের দু’ভাগ পড়েছে কানাডায় আর বাকি একভাগ পড়েছে আমেরিকায়। 

সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত হচ্ছে হর্সশু ফলস যা দেখতে ঘোড়ার খুরের মতো। নায়াগ্রার ৯০ ভাগ পানিই এই ফলস দিয়ে পতিত হয়। এই ফলসে অবস্থিত বিশেষ গেটের সাহায্যে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। 

বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল হলো এই মনোরম ও প্রাণবন্ত জলপ্রপাত পরিদর্শনের উপযুক্ত সময়। ‘মেড অব দ্য মিস্ট’ নামের একটি বোট জলপ্রপাতের তীরে সর্বদা অপেক্ষমান থাকে। এটি পর্যটকদের নায়াগ্রার অপার সৌন্দর্যের আরো সন্নিকটে নিয়ে যায়। 

৭) মধ্য আমেরিকার কোস্টা রিকাঃ 

মধ্য আমেরিকার কোস্টা রিকা

মধ্য আমেরিকার একটি দেশ হলো কোস্টা রিকা। এর শাব্দিক অর্থ হলো রিচ কোস্ট বা সমৃদ্ধ উপকূল। দেশটি লাতিন আমেরিকার একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র। নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান ও গড় আয়ু উভয়ই মধ্য আমেরিকার অন্য যেকোন দেশের তুলনায় উন্নত মানের ও বেশি। 

কোস্টারিকা একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও বিখ্যাত। এদেশের সবচেয়ে সুন্দর ১০টি টুরিস্ট স্পট হলো- পোয়াস ভলকেনো ন্যাশনাল পার্ক, লা ফরচুনা ওয়াটারফল, কর্কোভাডো ন্যাশনাল পার্ক, গানাক্যাসল বিচ, টরটুগুইরো ন্যাশনাল পার্ক, মেনুয়াল এন্টোনিও পার্ক, মন্টিভার্ডে ক্লাউড ফরেস্ট, সান্টা টেরেসা, এরিনাল ভলকেনো ও কোকোস আইল্যান্ড। 

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট পাখি হামিং বার্ডের দেখা মিলে কোস্টা রিকাতে। প্রায় ৩০০ প্রজাতির হামিং বার্ড আছে এখানে।

৮) কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফঃ 

কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল রিফ হলো গ্রেট বেরিয়ার রিফ। এটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের কোরাল সাগরে অবস্থিত। 

২,৯০০ এরও অধিক একক রিফের সমন্বয়ে এটি গঠিত। প্রবাল ও পলিপস এর মত কোটি কোটি ক্ষুদ্র অর্গানিজম দিয়ে এই রিফের কাঠামো গঠিত হয়েছে। মহাকাশ থেকে যে কয়েকটি স্থানের ছবি স্পষ্ট দেখা যায় তার মধ্যে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অন্যতম! 

প্রবাল হলো সাগরে বসবাসরত ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহ থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নামক এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। এটি দেহের বাইরে শক্ত আবরণ তৈরি করে। এই আবরণের মাধ্যমে প্রবালগুলো সাগরের নিচে ক্রমাগত জমা হয়ে এই প্রাচীর সৃষ্টি করে।

প্রবাল ছাড়াও ঝিনুক, স্পঞ্জ, মোলাস্কা, রে, ডলফিন, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাছ, পাখি, সরীসৃপ, সি কাউ বা ডুগং, কচ্ছপ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর বসবাস এই কোরাল প্রাচীরে। পানির উপরে ও তলদেশে উভয় ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। তাই সর্বাধিক সন্ধান করা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর তালিকায় এই রিফ তার স্থান করে নিয়েছে। 

৯) ইন্দোনেশিয়ার বালিঃ 

ইন্দোনেশিয়ার বালি

বালি হলো ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেসটিনেশনগুলোর অন্যতম এটি। জাভা ও লম্বুকের মাঝখানে বালির অবস্থান। 

আয়তনে ছোট একটি দ্বীপ হলেও অনেকগুলো বৈচিত্র্যময় দর্শনীয় স্থান রয়েছে বালিতে। যেমন- সাদা বালির সৈকত, পাহাড়, রাইস টেরেস, আগ্নেয়গিরি, পুরাতন মন্দির ইত্যাদি। বালি দু’টি অংশে বিভক্ত- সাউথ বালি ও নর্থ বালি। সাউথ বালিতে যেখানে রোদের তেজে গা পুড়ে যায় সেখানে মাত্র ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে নর্থ বালিতে কনকনে শীতে গায়ে সোয়েটার পরতে হয়! বালির একদিকে রয়েছে সমতল এলাকা, অন্যদিকে রয়েছে উঁচু উঁচু পাহাড়ে ঘেরা। আর ইন্দোনেশিয়া মুসলিম প্রধান দেশ হলেও বালি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চল।

বালিতে বছরের যেকোন সময় যাওয়া যায়। এপ্রিল থেকে অক্টোবর গ্রীষ্ম মৌসুম আর নভেম্বর থেকে মার্চ বর্ষা মৌসুম হলো এই দ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার দু’টো সিজন। 

১০) জাপানের টোকিওঃ 

জাপানের টোকিও

জাপানের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী হলো টোকিও। স্থানীয় জাপানি উচ্চারণে বলা হয়ে থাকে তৌকিও। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম যার আয়তন প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার। 

জাপানের রাজকীয় প্রাসাদটি টোকিও শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। এটি পাথরের প্রাচীর, পরিখা ও প্রশস্ত বাগান দিয়ে পরিবেষ্টিত। শহরের পূর্বদিকে অবস্থিত আলোয় ঝলমল করা গিনজা নামক এলাকাটি কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া টোকিওতে অনেক নগর-উদ্যান রয়েছে যাতে মনোরম সুদৃশ্য ধাঁচের বাগান রয়েছে। সেই সাথে টোকিওতে রয়েছে ঐতিহাসিক সব মন্দির। মেইজি শিন্তো তীর্থস্হলটি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। 

টোকিওতে বিজ্ঞান যাদুঘর, শিল্পকলা যাদুঘর ও চিড়িয়াখানাও আছে। এখানকার নাট্যশালাগুলোতে নিয়মিতভাবে ঐতিহ্যবাহী নাটকের পাশাপাশি আধুনিক নাটকও পরিবেশন করা হয়। জাপানের অনেকগুলি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় টোকিওতে অবস্থিত। 

শেষকথাঃ 

পৃথিবীর সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে যেসব তথ্য পরিবেশন করা হলো তা ভ্রমণপিপাসুদের কাজে লাগবে বলে বিশ্বাস করি। 

যদি এই কন্টেন্ট থেকে তারা সামান্যও উপকৃত হতে পারেন তবে তা লেখা সার্থক হয়েছে বলে মনে করবো। 

Explore More:

বিশ্বের দুর্ধর্ষ ১০ গোয়েন্দা সংস্থা, শীর্ষে রয়েছে মোসাদ

Recent Posts