সেরা দশ বাংলাদেশী ফুড ব্লগার


আমি মনে করি প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো খাবার এর প্রতি আগ্রহী। সবার পছন্দ,রুচি কখনো এক হবে না। তবে হে কেউ একটু বেশি ভোজনরসিক কেউ একটু কম। এখন চলে আসা যাক রান্না নিয়ে। রান্না এমন একটা শিল্প যা একদিনে পার্ফেক্ট হওয়া সম্ভব নয়।

তার জন্য অনেক কিছু জানা প্রয়োজন। বাংলা প্রবাদে শুনেছি সবাই, যে রাঁধে সে চুল ও বাঁধে। নারী,পুরুষ সকলের ই রান্না নিয়ে আইডিয়া থাকা উচিত।তার আগে জেনে নেওয়া যাক, ব্লগিং কি,কেন করে বা কোথায় করে।

চলে আসি ফুড ব্লগিং নিয়ে বা ফুড ব্লগিং কি? 

ব্লগিং এখন অন্যতম জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক কথায়,বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে খেয়ে বা নতুন কোনো রান্না এক্সপিরিমেন্ট করে রিভিউ দেওয়া কে ফুড ব্লগিং বলা যেতে পারে। ফুড ব্লগাররা তাদের এই ভোজনরসিক গুন কে শুধু খাবার টেবিল এই ধরে রাখেনা বরং তারা রিভিউ করে বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করে থাকে – ইউটিউবে,ইন্সটাগ্রামে বা হতে পারে ফেইসবুকে।

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, কি ধরনের খাবার নিয়ে ব্লগিং করা যায়?

বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক মজাদার খাবার হতে পারে যেমন ধরুন থাই খাবার,চাইনিজ খাবার,দেশি বাঙালি খাবার বা ঘরের তৈরি খাবার পিঠা পুলি ইত্যাদি।ব্লগিং এর রিভিউ তে খাবার র গুনগত মান,পুষ্টি,দাম,উপাদান ইত্যাদি নিয়ে ও কথা বলা হয়।আজ আমরা সেরা দশ ফুড ব্লগারদের নিয়ে জানব।

১) আদনান ফারুক:

আদনান ফারুক
আদনান ফারুক

ফুড ব্লগারের নাম বলতে গেলে প্রথমেই যার নাম আসে তিনি হলেন “আদনান ফারুক”। তিনি একাধারে একজন মডেল,অভিনেতা এবং সফল ফুড ব্লগার। তিনি তার চেনেল এ ফুড নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে রিভিউ দেন।

নানা রকম ফুড ছবি তুলে দেখান, ট্রাভেল করেন, রেস্টুরেন্ট ভিসিট করেন ইত্যাদি। তিনি তার নিজের নামে চেনেল খুলেছেন। ২০১৭ সালে তিনি তার চেনেল টি খুলেছিলেন। বর্তমানে তার চেনেলে ৫৫৭ হাজার সাবস্ক্রাইবার। তিনি তার চেনেল এ ফুড এর দাম শেয়ার করেন এবং খাবারের গুনগত মান নিয়ে ও কথা বলেন।

২)মিস্টার ফাহিম খানঃ

মিস্টার ফাহিম খান
মিস্টার ফাহিম খান

 দ্বিতীয়ত যার নাম আসে তিনি হলেন “মিস্টার ফাহিম খান”। তার চেনেল এর নাম “Bangladesh Food Review”। তিনি ঘুরে বেরাতে খুব পছন্দ করতেন । সেখান থেকেই ফুড রিভিউ নিয়ে চিন্তা ভাবনা এসেছিল।

তিনি দেশের ৬৪ জেলায় ঘুরে খাবার রিভিউ করেন এবং বিভিন্ন জেলার মানুষের খাবার ধরন নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন রকম খাবার এর ছবি শেয়ার করেন এবং গুনগত মান নিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে তার চেনেলে ৫৮৮ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং সেখানে তিনি প্রায় ৫১৪ টি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

৩)ইফতেখার রাফসান :

ইফতেখার রাফসান
ইফতেখার রাফসান

 তার পর যিনি আছেন তিনি হলেন “ইফতেখার রাফসান”। তার চেনেল এর নাম “Rafsan TheChotovai”। তার চেনেলে ৫৪৮ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে এবং এই পর্যন্ত ৭৯ ভিডিও তিনি আপলোড করেছেন। তিনি ফুড রিভিউ করেন। দেশের বিভিন্ন জায়গার ফুড নিয়ে কথা বলেন এবং গুনগত মান নিয়ে কথা বলেন। তিনি একজন প্রফেশনাল গেইমার ও বলা যায়।

৪)রাসিফ শফিক এবং রিদিমা ইপশা :

রাসিফ শফিক এবং রিদিমা ইপশা
রাসিফ শফিক এবং রিদিমা ইপশা

এরপর আছেন “রাসিফ শফিক এবং রিদিমা ইপশা”। তারা “Petuk Couple” চেনেলের ওনার(সি.ই.ও)।তারা বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন তারা খুবই ভোজনরসিক। তাদের চেনেল টি অনেক জনপ্রিয়। তারা দেশে বিদেশের বিভিন্ন খাবার নিয়ে কথা বলেন,রিভিউ করেন,ঘুরে বেরান,রেস্তোরাঁ ভিসিট করেন এবং নিজেরা রান্না করেন ও সেসব রান্না ছবিসহ ফেইজবুক পেইজে ও ইউটিউবে শেয়ার করেন।

তারা চেনেলে খাবারের দাম শেয়ার করেন এবং গুনগত মান নিয়ে আইডিয়া দেন। ৪৫৮ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে তাদের চেনেলে এবং ১৩১ টি ভিডিও তারা এখন পর্যন্ত চেনেলে শেয়ার করেছেন।

৫)মিস্টার এবং মিসেস কামরুল :

মিস্টার এবং মিসেস কামরুল
মিস্টার এবং মিসেস কামরুল

 এখন বলা যাক “মিস্টার এবং মিসেস কামরুল “ এর কথা। তারা “Crazy Fooder” চেনেলের ওনার। তারা শুধু ফুড লাভার দের জন্য চেনেলটি খুলেছিলেন। তারা বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান এবং ফুড রিভিউ দেন। তারা সুন্দর সুন্দর খাবারের ছবি ও শেয়ার করেন। তাদের ২৬৫ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে এবং ৪৬৫ টি ভিডিও শেয়ার করেছেন তাদের চেনেলে এখন পর্যন্ত।

৬)ফাহরিন জান্নাত ফাইযা :

ফাহরিন জান্নাত ফাইযা
ফাহরিন জান্নাত ফাইযা

 “ফাহরিন জান্নাত ফাইযা” যিনি “Khudalagse” চেনেল টির সি.ই.ও। তিনি ঢাকার ভিতরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এর রিভিউ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে গুলশান,বনানী,পুরান ঢাকা র স্ট্রিট ফুড নিয়ে রিভিউ করেন এবং ছবি আপলোড করেন।তার ইন্সটাগ্রাম এবং ফেইসবুকে অনেক ফেন ফলোয়ার আছে।

তার চেনেলে ৩৩৪ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে এবং সেখানে তিনি ৮৮ টি ভিডিও আপলোড করেছেন। তিনি খুব ভোজনরসিক এবং খাবারের গুনগত মান ও দাম ও শেয়ার করেন তার চেনেল এ।

৭)শাহরিয়ার রাব্বির ও তাহসিন তন্ময় : 

শাহরিয়ার রাব্বির ও তাহসিন তন্ময়
শাহরিয়ার রাব্বির ও তাহসিন তন্ময়

 “শাহরিয়ার রাব্বির ও তাহসিন তন্ময়” তারা ২ জন “Metroman” চেনেল এর সি.ই.ও। তারা দেশীয়  বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এর খাবারের গুনগত মান খুঁজেন এবং রিভিউ দিয়ে থাকেন। তাদের চেনেল এ স্ট্রিট ফুড নিয়ে রিভিউ আছে এবং লোকাল রেস্তোরাঁ র ভালো মন্দ নিয়ে কথা বলেন রিভিউ করেন। তারা নিজেরা তাদের চেনেলে বাফেট চেলেঞ্জ ও করে থাকেন। ১৬৯ টা ভিডিও আছে তাদের চেনেল এ এবং ১৮৭ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও রয়েছে।

এতক্ষণ যাদের কথা বললাম তারা সবাই ইউটিউব ফুড ব্লগার। এখন বলা যাক কয়েকজন ইনস্টাগ্রাম ফুড ব্লগারের কথা

৮)নওশিন খান প্রভা :

নওশিন খান প্রভা
নওশিন খান প্রভা

 “নওশিন খান প্রভা” তিনি একজন ইনস্টাগ্রাম ফুড ব্লগার। তার ইনস্টাগ্রাম আইডির নাম “Provaeats”। তিনি সেখানে নানা রকম রেস্টুরেন্ট ভিসিট করেন এবং নানা রকম খাবারের ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তিনি খাবারের শর্ট ভিডিও করেন এবং খাবার খেয়ে থাকেন।সেখানে তার ৪৯ হাজার ফলোয়ার আছে।

এখন পর্যন্ত তিনি ১২০৪ টি পোস্ট দিয়েছেন তার ইনস্টাগ্রাম আইডিতে। তার ইনস্টাগ্রাম আইডিতে তার নাম দেওয়া আছে ফাবিহা নওশীন প্রভা। ভোজনরসিকরা তার আইডি ভিসিট করলে নানা রকম মুখরোচক বাঙালি খাবার এর আইডিয়া পেয়ে যাবেন ।

৯)তানহা :

তানহা
তানহা

 নয় নাম্বার এ যার কথা বলব তিনি হলেন “তানহা” । তিনি একজন ইনস্টাগ্রাম ফুড ব্লগার। তার ইনস্টাগ্রাম আইডির নাম “foodieshe” Dhaka Food Blogger । তিনি সেখানে নানা ধরনের খাবার এর ছবি দিয়ে থাকেন। ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ভিসিট করেন ও সেখানকার খাবার নিয়ে রিভিউ দেন। তার আইডি তে ১১২৫ টি পোস্ট রয়েছে। তার ফলোআর ১৯ হাজার এর ও বেশি।

১০) ইফরিত তাহিয়া :

ইফরিত তাহিয়া
ইফরিত তাহিয়া

এখন যার কথা বলব তিনি হলেন “ইফরিত তাহিয়া”। তিনিও একজন ইনস্টাগ্রাম ফুড ব্লগার। তার ইনস্টাগ্রাম আইডির নাম “iffybiffys”।তিনি একজন ভোজনরসিক। তিনি সেখানে বিভিন্ন আইটেম এর খাবার ছবি তুলে পোস্ট করেছেন। তার আইডিতে ৩৯১ টি পোস্ট আছে। তিনি ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ভিসিট করেন এবং খাবারের রিভিউ দেন। তার ফলোআর ১৬ হাজার এর ও বেশি।

এই ছিল সেরা দশ জন ফুড ব্লগারের ইনফরমেশন।

ভোজনরসিক দের জন্য ইনফরমেশন গুলো খুব কাজে লাগবে।তারা তাদের রিভিউ দেখে পছন্দ মতো রেস্টুরেন্ট এ যেতে পারবে বা খাবার খেতে পারবে। এখন তো ফুডপান্ডা দিয়ে ঘরে বসে খাবার অর্ডার করা যায়।এর জন্য হাতের কাছের এনড্রয়েড ফোন টিই যথেষ্ট আমি মনে করি।

যারা রেস্টুরেন্ট এ যেতে বা খেতে পছন্দ করেন তারা ও ছবি বা ভিডিও করে ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম এ শেয়ার করে নিজেরাও ফুড ব্লগিং করতে পারেন। ফুড ব্লগিং নিয়ে চাইলে কন্টেন্ট ও লিখতে পারেন এবং বিভিন্ন সাইটে আপলোড ও করতে পারেন। আজকাল এসব চাইলে কোনো বেপার ই না। শুধু কিছু ডিভাইস প্রয়োজন আর প্রয়োজন কিছু সময়। 

আজকাল মানুষ টিভি বা সেটেলাইট এ তেমন আগ্রহ দেখায় না। সবাই এখন ইউটিউব বা সোসাল সাইট নিয়ে বেস্ত। কারণ বিজ্ঞাপন আর প্রচারণা র জন্য কেউ আজকাল টিভিতে আগ্রহী নয়। ইউটিউবে ও আজকাল রান্না বিষয়ক অনেক ভিডিও পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই খাবারের গুণগত মান বিবেচনা করে খাবার খাওয়া অনেক জরুরি। ফুড ব্লগাররা আমাদের এই বিষয়ে ও হেল্প করে থাকেন। তারা রেসিপি এর দাম ও আমাদের জানিয়ে দেন। এটাও খুব হেল্পফুল বলে মনে করি। 

খাবার আলাদা একটা সেক্টর বলা চলে।নানা দেশের নানা কালচার এর লোক নানা খাবার খেয়ে থাকে।কত রকমের খাবার আছে এই পৃথিবী তে তা বলার অপেক্ষা রাখে না,বলে শেষ করা যাবেনা। এক এক খাবার এর এক এক স্বাদ,গন্ধ। আমাদের দেশে স্ট্রিট ফুড খুব ভাল চলে। এই সেক্টর টা উন্নত করতে পারলে বিশেষ করে যুবকদের অনেক উপকার হতো। অনেক বেকার মানুষ কাজের সুযোগ পেত।

অনেক পরিবারের অভাব দূর হতো। অনেক কর্মজীবী লোক ও কমদামে স্ট্রিট ফুড খেতে পারতো। বাঙালি ফুড পছন্দ করেন এমন অনেক পর্যটক ও আছেন। কিছু কিছু বিদেশি ফুড ব্লগার ও আজকাল আমাদের খাবার নিয়ে রিভিউ দেন। 

খাবার নিয়ে কথা বললে হয়ত শেষ করা যাবেনা। আমাদের উচিত খাবারের গুনগত মানসম্পন্ন করে খাবার কে ভেজাল মুক্ত করা।

Explore More:

বিশ্বের সেরা ১০ দুঃসাহসী প্রাণী

Tanjila Jahan Any

I am a professional content writer and graphics designer . My background is CSE.

Recent Posts