জানা-অজানা রহস্যময় ১০ টি স্থান


এই বিশাল পৃথিবীর কতটুকুই বা আমরা জানি? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে এসেও প্রকৃতির অনেক রহস্যের কাছে আজও আমরা পরাজিত। রহস্যে ঘেরা সেই সব স্থান বরাবরই মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। ভাবতে শিখিয়েছে। ভাবতে ভাবতে কখনও হয়তো কিছু রহস্যের সমাধানও হয়েছে আর কিছু আজও রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এমনই কিছু জানা অজানা রহস্যময় ১০ টি স্থান নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন। এখানে আমরা এমন ১০ টি রহস্যময় স্থান নিয়ে আলোচনা করবো যা সারা বিশ্বের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। চলুন জেনে আসি সে সব স্থান সম্পর্কে –

পৃথিবীর জানা-অজানা রহস্যময় ১০ টি স্থান যা সম্পর্কে আপনার জানা উচিত-

১.বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বা ডেভিলস ট্রায়াঙ্গল :

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বা ডেভিলস ট্রায়াঙ্গল

পৃথিবীর রহস্যময় জায়গাগুলোর তালিকার মধ্যে যে স্থানটি এক নাম্বারে রয়েছে তা হচ্ছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। অনেকের কাছেই এটি ডেভিলস ট্রায়াঙ্গল বা শয়তানের ত্রিভুজ নামে পরিচিত। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ত্রিভুজাকৃতির এই স্থানটি আমেরিকার দক্ষিণপশ্চিম উপকূল,বারমুডা ও বৃহত্তর অ্যান্টিলিস দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা পরিবেষ্টিত ১,৩০০,০০০ থেকে ৩,৯০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত।

এখানে এখনো পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে প্রায় ৫০ টি জাহাজ ও ২০ টি উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  যাদের কোনো ধ্বংসাবশেষ ও খুজে পাওয়া যায় নি।অনেকেরই ধারণা এটি কোনো অশুভ শক্তি বা এলিয়েনদের কাজ।

তবে অনেকেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর রহস্যের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম অংশ ‘মিলওয়াকি ডেপথ্’ এর অবস্থান। এছাড়াও এই স্থানটি অত্যন্ত ঘূর্ণিঝড়প্রবন। শক্তিশালী উপসাগরীয় স্রোতের কারনে এখানে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।এসব কারনকেই অনেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এ দূর্ঘটনা ঘটার পেছনে দায়ী করে থাকেন।

২. নরকের দরজা:

নরকের দরজা

নাম শুনে অবাক হচ্ছেন? নরকের দরজা! তাও আবার পৃথিবীতে! হ্যা,সোভিয়েতের ভূতাত্ত্বিকেরা ১৯৭১ সালে তুর্খমেনিস্তান এর দারভাযা অঞ্চলে এই নরকের দরজার দেখা পান। সোভিয়েতের একদল ইঞ্জিনিয়ার এই অঞ্চলটি থেকে তেল উত্তোলনের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত তেলের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য খননকারী যন্ত্র স্থাপন করে। প্রাথমিকভাবে পরিচালিত জরিপ থেকে খননকাজে স্থাপনকৃত ক্যাম্পের নিচে একটি প্রাকৃতিক গ্যাসপকেটের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায় এবং ক্যাম্পটি একটি বিশাল গর্তের মধ্যে খননকারী যন্ত্রটি সহ ধ্বসে পরে।

বিষাক্ত গ্যাসের ছড়িয়ে পরা রোধ করতে সেখানে আগুন লাগিয়ে গ্যাসগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।অনুমান করা হয়েছিলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গ্যাস পুড়ে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমানিত করে ওই স্থানে এখনো পর্যন্ত আগুন জ্বলেই চলেছে এবং বর্তমানে এটি নরকের দরজা বলে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এটি দেখার জন্য তুর্খমেনিস্তানের দারভাযা অঞ্চলে উপস্থিত হন।

৩. চিরন্তন শিখা জলপ্রপাত :

চিরন্তন শিখা জলপ্রপাত

জলপ্রপাত আর আগুনের শিখার ব্যাপারটা একসাথে কি কিছুটা বেমানান মনে হচ্ছে? কিন্তু এই খেয়ালি প্রকৃতিতে অনেক বিচিত্র ব্যাপার ই ঘটে থাকে। এমনই একটি ঘটনার উদাহরণ হচ্ছে চিরন্তন শিখা জলপ্রপাত। ইংরেজিতে যা Eternal Flame Falls নামে পরিচিত। নিউইয়র্কের চেস্টনাট রিজ পার্কে এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক জলপ্রপাতটি অবস্থিত।

এই জলপ্রপাতটি ঘিরে বহু বছরের পুরনো অনেক কিংবদন্তি গল্প প্রচলিত থাকলেও এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা পাওয়া যায় নি। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীরা ধারনা করেছিলো যে প্রাচীন ও অত্যধিক উত্তপ্ত শিলার কারনেই এই শিখার উৎপত্তি ঘটেছে। পরবর্তীতে এই ধারনা ভুল প্রমানিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে ভূ-অভ্যন্তরের অতিরিক্ত চাপের কারনে পাহাড়ের ফাটল চুইয়ে বের হয়ে আসা গ্যাসই এই আগুনের উৎস। মাঝে মাঝে নিভে গেলে এই আগুন পুনরায় জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

৪. ম্যাগনেটিক হিল বা চৌম্বকীয় পাহাড় :

ম্যাগনেটিক হিল বা চৌম্বকীয় পাহাড়

আপনার যদি পাহাড়ে উঠার অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই জানেন তা কি কষ্টসাধ্য কাজ। অবশ্য না উঠলেও তা অনুমান করা যায়।কিন্তু সব পাহাড়ে উঠাই কি এতোটা দুঃসাধ্য? ভারতের লাদাখের লেহ শহর থেকে ৩০ কি.মি. দূরে অবস্থিত লেহ-কারগিল মহাসড়ক দিয়ে যেয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,০০০ ফুট উপরে এক রহস্যময় পাহাড়ের দেখা মিলে যেখানে গাড়ি নিয়ে গেলে তা মহাকর্ষীয় বলের বিপরীতে কাজ করে। অর্থাৎ, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে গাড়ি নিয়ে উঠার সময় কেউ যদি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়,তারপরও তা উপরে উঠতে থাকে।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে এই রাস্তা ধরে একসময় স্বর্গে যাওয়া যেতো এবং শুধুমাত্র পূণ্যবানেরাই এর খোঁজ পেতো। কিন্তু বিজ্ঞান বলে এই পাহাড়টিতে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র রয়েছে যা গাড়িকে আকর্ষন করে। অন্য মতামত অনুযায়ী এটি আসলে এক ধরনের দৃষ্টিবিভ্রম অর্থাৎ যখন কেউ মনে করছে যে তার গাড়ি উপরে উঠছে তা আসলে উপরে উঠছে না নিচেই নামছে।

৫. রক্তের জলপ্রপাত :

রক্তের জলপ্রপাত

নাম শুনে ভয় পাবেন না। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি দেখলে এবং নাম শুনলে যদিও আঁতকে উঠাই স্বাভাবিক।এই জলপ্রপাতের রহস্যময়তার পেছনে রয়েছে এর হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় এর রক্তবর্ণ প্রবাহ যেখানে আশেপাশের সবকিছু বরফে ঢাকা পরে থাকে।

তবে এই রহস্যের কারণ বর্তমানে উদঘাটিত হয়েছে।এর রক্তের মতো লাল বর্ণের জন্য  যদিও একসময় শৈবালের উপস্থিতিকে দায়ী করা হতো। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে,এই জলপ্রপাতের পানিতে উচ্চ ঘনমাত্রার লৌহজাতীয় লবণের উপস্থিত যা পানির রক্তবর্ণ ও জমাট না বাধার পেছেনে দায়ী। আর যেহেতু লবনাক্ত পানির হিমাঙ্ক বিশুদ্ধ পানির চেয়ে নিচে,তাই এই পানি জমাট না বেধে প্রবাহিত হয়।

৬. লেক ন্যাট্রন:

লেক ন্যাট্রন

এমন কোনো লেকের নাম শুনেছেন যার পানিতে জীবন্ত পশুপাখি পরলে তা মমিতে পরিণত হয়? আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর তানজানিয়ায় অবস্থিত লেক ন্যাট্রন এমনই একটি আশ্চর্যজনক লেক। এখানকার পানিতে ন্যাট্রন জাতীয় রাসায়নিকের আধিক্য থাকার কারনে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। এই লেকের পিএইচ লেভেল ১০ এরও অধিক যা প্রানীদের ত্বক পুড়িয়ে ফেলে মমিতে পরিণত করতে সক্ষম। ৩৫ মাইল লম্বা ও ১৫ মাইল চওড়া এই লেকটির পাশে অবস্থিত গেলাই আগ্নেয়গিরি হতে আসা ছাই এর পানির সাথে মিশে যায় যা এর ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য ও উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

লেকটির রহস্যময়তার আরেকটি কারন হচ্ছে এর বিচিত্র রঙ যা কোথাও লাল,কোথাও কমলা আবার কোথাও বা গোলাপি। এখানে বিদ্যমান একধরনের সায়ানোব্যাক্টেরিয়া এই বর্ণের জন্য দায়ী। তবে এই উচ্চতাপমাত্রা ও লবনাক্ত জলাভূমির শৈবালের প্রাচুর্য এটিকে ফ্লেমিঙ্গদের আদর্শ আবাসস্থল হিসাবে তৈরি করেছে। প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ফ্লেমিঙ্গ এখানে তাদের আবাসস্থল গড়ে তুলেছে।

৭. গ্রেট ব্লু হোল:

গ্রেট ব্লু হোল

বেলিজ উপকূল থেকে ১০০ কি.মি. দূরে গেলেই প্রকৃতির এই বিস্ময়কর সৃষ্টির দেখা মিলে। এটি সমুদ্রে ডুবন্ত একটি বিশালাকৃতির খাদ যা গাঢ় নীলবর্ণের এবং প্রায় ৩০০ মিটার জুড়ে বিস্তৃত এবং গভীরতা প্রায় ১২৫ মিটার। লাইটহাউজ নামক আংটি আকৃতির মতো করে সজ্জিত একগুচ্ছ প্রবাল প্রাচীরের মাঝখানে এটি অবস্থিত।

ধারনা করা হয় এই ডুবন্ত খাদটি গঠিত হয়েছিলো বরফযুগে একটি চুনাপাথরের গুহা হিসেবে। সেইসময় সমুদ্রপৃষ্ঠ অনেক নীচু ছিলো। ধীরে ধীরে এর উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে গুহাটি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানরূপ লাভ করেছে। পর্যটকদের নিকট এটি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান।সঁাতার কাটার জন্য মহাসাগরের গভীরতায় অবস্থিত এই অসাধারণ ভৌগোলিক রূপান্তরের সাক্ষী হতে অনেকেই হাজির হন এখানে। ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান হিসাবে ঘোষনা করেছে।

৮. মেন্ডেনহেল আইস কেভ:

মেন্ডেনহেল আইস কেভ

গুহা বলতেই চোখের সামনে যে দৃশ্যটি ভেসে উঠে তা হলো একটি অন্ধকার ও ভৌতিক সরু পথ যা পাহাড় ভেদ করে চলে গেছে। আমেরিকার দক্ষিন-পশ্চিম আলাস্কা রাজ্যের জুনো অঞ্চলের মেন্ডেনহেল আইস কেভ কিন্তু মোটেই এমন নয়। এই গুহাটির বরফ নির্মিত ছাদ দিনের আলো প্রতিফলিত করে বলে এটি দিনের বেলা আলোকিত থাকে।

প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ১২ কি.মি. দীর্ঘ ফাপা হিমবাহ যার সবচেয়ে বড় আকর্ষন হচ্ছে মাথার উপরের নীলচে বরফের ছাদ ও পায়ের নিচে নুড়ি পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহিত স্বচ্ছ পানি। নীলচে বরফের ছাদের নিচে এই গুহার শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য্য দেখে আপনার কাছেও মনে হবে এই দৃশ্য অপার্থিব।

৯. তারার সমুদ্র :

তারার সমুদ্র

আকাশের তারা আর সমুদ্রের ঢেউ যদি কোথাও একসাথে মিশে যায়,কেমন হতে পারে সে দৃশ্য কল্পনা করতে পারেন? বাস্তবে যদিও তা সম্ভব নয় তবে এমন একটি স্থান রয়েছে যেখানে গেলে এইরকম দৃশ্যের দেখা মিলবে। সেটি হচ্ছে মালদ্বীপের ভাডু দ্বীপ।

গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় এই দ্বীপের সমুদ্র তটে দাঁড়িয়ে আপনি কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন যে আপনি তারার সমুদ্রে দাঁড়িয়ে আছেন। অকল্পনীয় এই দৃশ্য সৃষ্টির পেছনের রহস্য কিন্তু খুবই সাধারণ। এখানের সমুদ্রের পানিতে বায়োলুমিনিসেন্ট ফাইটোপ্লাঙ্কটন রয়েছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে দোল খেয়ে এগুলো জ্বলে উঠলে এই অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

১০. প্লেইন অফ জার:

প্লেইন অফ জার

বিশালাকার পাথরের অসংখ্য জার বা পাত্রের সমাবেশ দেখা যায় লাওসের ফোনসাভান অঞ্চলের জিয়াং খোউং সমতলে। এই রহস্যময় পাত্রগুলো কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে বা কারা এগুলো তৈরী করেছে তা আজও জানা যায়নি।বেশিরভাগ জারই পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত যেগুলোর উচ্চতা ৩-১০ ফিটের মধ্যে যাদের প্রত্যেকের ওজন ১৪ টনের উপরে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারনা অনুযায়ী এই পাত্রগুলো ব্যাবহৃত হতো ১৫০০-২০০০ বছর পূর্বে। অনেকের মতে এগুলো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর শবাধার হিসাবে অথবা খাদ্য সংরক্ষণের কাজে ব্যাবহার করা হতো। স্থানীয়দের মধ্যে কাহিনী প্রচলিত আছে যে-এসব পাত্র তৈরি করেছে দৈত্যদের রাজা খুন চেউং। বলা হয়ে থাকে যে এক বিশাল যুদ্ধ জয়ের উৎসব উদযাপনের উদ্দেশ্যে এই পাত্রগুলো তৈরি করা হয়েছিলো এক ধরনের চালের মদ চোলাই করার জন্য।

বিচিত্র আমাদের এ পৃথিবী। এর প্রতি পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে কতই না বিস্ময়,কতই না অজানা রহস্য যার কিছু মানুষ জেনেছে আর অধিকাংশ আজও রয়ে গেছে অজানা। সভ্যতা যতই অগ্রগতি ঘটছে আমরা ততই জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতি লাভ করছি এবং রহস্যগুলো ক্রমেই আমাদের কাছে পরিস্কার হয়ে আসছে।তবে প্রকৃতির এই বিস্ময়গুলো আমাদের যুগে যুগে ভাবিয়েছে যাবে এবং ভবিষ্যতেও ভাবিয়ে যাবে। জানা অজানার রহস্যময় ১০ টি স্থান সম্পর্কে জেনে আমরা বিশাল প্রকৃতির কাছে নিজেদের ক্ষুদ্রতা অনুভব করতে পারি আর বুঝতে পারি এই প্রকৃতি কত  রহস্যই না তার বুকে ধারন করে আছে।

Explore More:

বিশ্বের দুর্ধর্ষ ১০ গোয়েন্দা সংস্থা, শীর্ষে রয়েছে মোসাদ

বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশন যাদের নামে শিউরে উঠে বিশ্ব


Recent Posts