বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশন যাদের নামে শিউরে উঠে বিশ্ব


বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশন যাদের নাম শুনলেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। 

সিক্রেট সার্ভিস, আন্ডারকভার এজেন্ট, কিংবা কভার্ট অপারেশন যাই বলা হোক না কেনো এদের  নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে সিআইএ, এফএসবি, এমআই সিক্স, মোসাদের মতো বিশ্বখ্যাত সব সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সির নাম৷ কিংবা মনে পড়ে যায় কুখ্যাত সব মিলিটারি স্কোয়াডের কথা৷

কী ছিল বিশ্ব কাঁপানো সেই কভার্ট অপারেশন? যারা বিশ্বের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে?

অনেকেই হয়তো জানেন না সেই ইতিহাস। তাহলে দেরি না করে চলুন জেনে নেয়া যাক  বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশনের কথা যা জানলে আপনিও হয়তো শিউরে উঠবেন।

জেনে নেয়া যাক  বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশনের কথা:

১. অপারেশন ভালকিরি 

কভার্ট অপারেশন কিংবা আন্ডারকভার অপারেশনের নাম উঠলেই সবার প্রথমে উঠে আসে অপারেশন ভালকিরির নাম। 

ব্যর্থ অপারেশন হওয়ার পরও কেনো এটি বিশ্বের তামাম কভার্ট অপারেশনের শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে?

এর একটাই কারণ। আর তা হলো এই অপারেশনের নিশানায় থাকা ব্যক্তিটির জন্য। 

হবেই না বা কেনো?  এই অভিযানটি যে ছিল সেই সময়ের জার্মানির শাসক অ্যাডলফ হিটলারের বিরুদ্ধে করা ষড়যন্ত্র। 

১৯৪৪ সাল, জার্মানিতে চলছে হিটলার হত্যার গোপন ছক। আর এই গোপন ছক কষেছিলেন ক্লাউজ ভন স্টাফেনবার্গ নামের এক সেনা কর্মকর্তা।  তার এই অভিযানের সঙ্গী হয়েছিল কয়েকটি নাৎসি বিরোধী সংঘটন।

দু’বার পরিকল্পনা করার পরও পিছিয়ে এসেছিলেন ক্লাউজ। কারণ তিনি চেয়েছিলেন হিটলারের সাথে সাথে হিটলারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তিকেও এই হত্যাকাণ্ডের শিকার করতে।

১৯৪৪ সালের ২০ জুলাই হিটলার উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা এবং নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সেনাকে নিয়ে একটি কনফারেন্সের আয়োজন করেন। ক্লাউজ সেই কনফারেন্সে হিটলারের পাশে বসে  হিটলারের সামনের টেবিলে একটি ব্রিফকেস রেখে দিয়ে কনফারেন্স থেকে বেরিয়ে যান।

এর একটু পরই হিটলারের ফোনে একটি কল আসে এবং হিটলারকে টেবিল থেকে দূরে সরে যেতে বলা হয়। হিটলার ফোন কল পেয়ে টেবিল থেকে কিছুটা দূরে যেতেই ব্রিফকেসে রাখা টাইম বোমা বিস্ফোরিত হয়। সে যাত্রায় হিটলার প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মকভাবে জখমের শিকার হোন।  

২. অপারেশন নেপচুন স্পেয়ার

এই অপারেশন সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুব একটা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কমবেশি প্রায় সবাই এই অপারেশনের সাথে পরিচিত।

এটি ছিল আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনকে নিকেশ করার অভিযান। এটি ছিল পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনকে হত্যার জন্য  মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা CIA দ্বারা পরিচালিত একটি সফল অভিযান। 

সিআইএ (CIA) এই অপারেশনের নাম দিয়েছিল “নেপচুন স্পেয়ার”।

২০১১ সালের ২ মে, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের বিলাল টাউনে ওসামা বিন লাদেনের সেফ হাউসে হানা দিয়েছিল মার্কিনি স্পেশাল ফোর্স নেভী সিলের সদস্যরা। রাতের অন্ধকারে এই স্কোয়াড হামলা চালাতে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিল। তাই এই স্কোয়াডকে বলা হয় ” নাইট স্টকার্স”।

দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং দুটি চিনক্স নিয়ে অ্যাবোটাবাদে ল্যান্ড করেছিল মার্কিন নেভী সিল স্কোয়াড। এছাড়াও অ্যাবোটাবাদের অদূরেই ঘাঁটি গেড়েছিল মার্কিন নৌ-সেনারা।

লাদেন তখন তাঁর সেফ হাউসের তিনতলায় অবস্থান করছিলেন। মার্কিন সেনারা তাঁকে দেখামাত্র কোনো রকম সুযোগ না দিয়েই পরপর দু’বার গুলি করে বসেন। পরক্ষণেই  লুটিয়ে পড়েন  বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেন। এরপর তাঁর দেহকে সাগরের জলে ছুঁড়ে ফেলে মার্কিন সেনা বাহিনী। 

৩. অপারেশন এন্তেবে

এটি ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক দুঃসাহসিক সফল অভিযান। ৪ জুলাই ১৯৭৬,  এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমানকে হাইজ্যাক করে প্যালেস্তাইন জঙ্গিরা। যাত্রীবাহী এই বিমানটি গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে প্যারিস যাওয়ার পথে  প্যালেস্তাইনের জঙ্গিদের আক্রমণের শিকার হয়।

যাত্রীবাহী বিমানটিকে জঙ্গিরা উগান্ডার এন্তেবে বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করায়।  বিমানটিতে বহু ইসরাইলি  নাগরিকও ছিল।

গভীর রাতে সেই বিমানঘাঁটিতে অভিযান চালায় দুঃসাহসিক ১০০ জন ইসরাইল কমান্ডো। তিনটি হারকিউলিস হেলিকপ্টারে করে এন্তেবে বিমানঘাঁটিতে নামে মোসনাদের কমান্ডোরা।

জঙ্গিরা কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয়ে যায় অপারেশনটি। ইসরাইল কমান্ডোদের এই আচমকা হানায় হতভম্ব হয়ে পড়েছিল জঙ্গিরা। সফল এই অভিযানটি সম্পন্ন করতে ইসরাইল কমান্ডোদের সময় লেগেছিল মাত্র ৩৫ মিনিট।

এই অভিযানে তিনজন পণবন্ধি এবং একজন কমান্ডের মৃত্যু হয়েছিল। তবে বাকি পণবন্ধিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

৪. অপারেশন আইচ

বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশনের মধ্যে অপারেশন আইচ একটি। এই অপারেশনের পরিকল্পনা করেছিলেন স্বয়ং হিটলার। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সিশলির আক্রমণের শিকার হয় ইতালি। এতে ইতালির সরকার হিটলারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু  মুসোলিনির পতন হয়। মুসোলিনিকে গ্রেফতার করা হয় এবং বন্ধি করে রাখা হয় ইতালির গ্রান সাসো এলাকায়। 

তখন মুসোলিনিকে উদ্ধার করতে একটি কভার্ট অপারেশনের পরিকল্পনা করেন হিটলার। অত্তো সাকোরজি নামে এক গোয়েন্দা এজেন্টকে দায়িত্ব দেয়া হয় এই অভিযানটি বাস্তবায়ন করতে।

সাকোরজি একটি সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের মাধ্যমে মুসোলিনির লোকেশন জেনে নেয়। এরপরই সেখানে প্যারাট্রুপের মাধ্যমে হামলা চালায় সাকোরজি।

এই গোটা অপারেশনে প্যারাট্রুপের একজন মাত্র সদস্য নিহত হয়। তবে এই অপারেশনে মুসোলিনিকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

৫. অপারেশন পে ব্যাক

অপারেশন পে ব্যাক কোনো নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট কোনো সিক্রেট এজেন্সির অপারেশন নয়। তবুও যেভাবে সিক্রেট অপারেশনের কায়দায় পুরো ব্যাপারটিকে সংঘটিত করা হয়েছিলো, তা উল্লেখযোগ্য কভার্ট অপারেশন ছাড়া আর কি’ই বা হতে পারে?

এই অপারেশনটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন আপদকালীন পরিষেবাকে পরপর স্তব্ধ করে দেয়া। গোয়েন্দাদের ভাষায় যাকে বলা হয়ে থাকে ডিওএস অ্যাটাক (ডিনায়াল অফ সার্ভিস)। 

এই অপারেশনটি চালিয়েছিলো একটি বেনামি সিক্রেট এজেন্সি। 

ইরাকে যুদ্ধসম্পর্কিত বহু গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলো উইকিলিক্স, যার ধরুন ভিসা, পে প্যাল, মাস্টার কার্ডের মতো বহু সংস্থা উইকিলিক্সের সঙ্গে তাঁদের চুক্তি ভঙ্গ করে নেয়।

এরই প্রতিবাদে এই সমস্ত সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করে পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল উইকিলিক্স।

হ্যাকাররা এই সমস্ত ওয়েবসাইটে লিখে দিয়েছিল ‘পে ব্যাক’।

প্রকৃতপক্ষে এই অপারেশনের পেছনে কাদের হাত আছে তা আজও সঠিকভাবে জানা যায় নি। উইকিলিক্সকে আপাততভাবে সন্দেহ করা হলেও পরে তদন্তে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নি।

৬. অপারেশন ওয়ার্থ অফ গড

বিশ্বের সেরা ১০ কোভার্ট অপারেশন এর মধ্যে বহুল আলোচিত একটি অপারেশন এটি। এই  দুর্ধর্ষ অভিযানটি চালিয়েছিলো ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ।

১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিক চলাকালীন ফিলিস্তিনের ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ নামের একটি জঙ্গি সংঘটন এগারোজন ইসরাইল অ্যাথলেটকে অপহরণ করে হত্যা করেছিল।

এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই  অপারেশন ওয়ার্থ অফ গড প্ল্যান করেছিল মোসাদ সংস্থাটি।

জানলে অবাক হবেন এই অপারেশন চলাকালীন সারা ইউরোপ থেকে ঐ জঙ্গিদের খুঁজে খুঁজে বের করে হত্যা করেছিল মোসাদের এজেন্টরা।

শুধু তাই না, এই অভিযানটিতে এক এক জন জঙ্গিকে মারার কৌশলও ছিল চমকপ্রদ এবং খুবই লোমহর্ষক। 

কোরান শরিফের মধ্যে রাখা হয়েছিল বোমা। যা খুলতেই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল এক জঙ্গির। প্রায় ১০ বছর ধরে ১২ জন জঙ্গিকে খুঁজে বের করে মেরে তবেই শান্ত হয়েছিলো মোসাদ।

এটিকে গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাসে এখনও ‘ এপিক’ বলে মনে করা হয়ে থাকে।

৭. অপারেশন প্লুটো

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র পরিচালিত দুঃসাহসিক এই অভিযানটি শেষ মুহূর্তে সফল হয়নি। এর পরও একে সেরা ১০ কভার্ট অপারেশনের মধ্যে রাখার কারণ এই অপারেশনের নিশানা করা ব্যক্তিটির জন্য। 

এই অপারেশনের লক্ষ্য ছিল  কিউবান বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করা।  জে এফ কেনেডি তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।  বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে দক্ষিণ কিউবায় এই অপারেশনটি সংঘটিত করার জন্য কোনো আমেরিকান নাগরিক নয়, বরং নিয়োগ করা হয়েছিল কয়েকজন কিউবার নাগরিককে।

আকাশপথে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকানরা। কিন্তু কাস্ত্রোর জনপ্রিয়তাই তাঁকে সে বার বাঁচিয়ে দিয়েছিল। অপারেশনের কিছুক্ষণ পূর্বে ফাঁস হয়ে যায় সমস্ত পরিকল্পনা।  আর তখনই কিউবার স্থানীয় বাসিন্দারা কাস্ত্রোকে নিরাপদে অন্যত্র  সরিয়ে নিয়ে যায়। 

ফলে ব্যর্থ হয় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র এই গোপন অভিযানটি। তবে অপারেশন প্লুটো ব্যর্থ হওয়ার ধরুণ তৎকালীন সিআইএ এর প্রধানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

৮. অপারেশন অ্যান্ত্রোপোয়েড

১৯৪২ সালে ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থা এমআই সিক্স, নাৎসি কমান্ডার রেইনহার্ড হেড্রিককে হত্যা করার ছক কষেছিল। এই অপারেশনের জন্য চেকোস্লোভাকিয়ায় ব্রিটেনের মিলিটারি বেস ক্যাম্প থেকে দুজন সদস্যকে নির্বাচিত করেছিল এমআই সিক্স।

 ২৭ মে ১৯৪২ সাল, ঘটানো হয় সেই দুর্ধর্ষ হত্যাকাণ্ড। কীভাবে ঘটানো হয়েছিল সেই হত্যাকাণ্ড?

ব্যস্ত একটি রাস্তার ট্রামের মাঝে একেবারে ঠিক জানালার পাশেই বসেছিল নির্বাচিত দুই এজেন্ট।  আর ঠিক তখনই ট্রামটির একেবারে গা ঘেঁষেই এসে দাঁড়ায় কমান্ডার রেইনহার্ডের হুটখোলা গাড়ি।

পরক্ষণেই এক এজেন্ট ট্রামের জানলা দিয়ে বন্দুক তাক করে কমান্ডারকে নিশানা করে গুলি ছুড়ে।  কিন্তু  বন্দুকের যান্ত্রিক এুটির কারণে ট্রিগার আটকে যায়, বেঁচে যান কমান্ডার। 

সেই সময় কমান্ডার এজেন্টের এই কর্মকাণ্ড দেখে ফেলেন এবং নিজেই পাল্টা গুলি চালান এজেন্টদের নিশানা করে। গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি।

সেই সময়ে অপর এজেন্ট কমান্ডের গাড়িতে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে, প্রবল বিস্ফোরণে গাড়িটি  উড়ে যায়। এই অপারেশনে রেইনহার্ড মারাত্মকভাবে জখম হোন।

সেইসময় রেইনহার্ড বেঁচে গেলেও হাসপাতালে অপারেশনের কয়েকদিন পরই তিনি মারা যান।

৯. অপারেশন এম কে আল্ট্রা

কারও স্মৃতিকে তার মস্তিষ্ক থেকে মুছে দেওয়াই ছিল এই অপারেশনের লক্ষ্য।  নতুন ধরনের এই অপারেশনটির জনক উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার মগজধোলাই শিবির ‘ ব্রেনওয়াশিং প্রোগ্রাম ‘ কে এক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক বলা চলে।

এ অপারেশনে কারো স্মৃতিকে মুছে দেওয়ার জন্য যে উপায়গুলি সিআইএ অবলম্বন করতো তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।  এতে কাউকে দিনের পর দিন এলএসডি’র মতো মারণ ড্রাগ দেয়া হতো, যেনো সে কোনও গোপন তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে চাইলেও ফাঁস না করতে পারে। কোনো কোনো সময় হিপনোটাইজও করা হতো।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাই ডোজের ড্রাগের ব্যবহার করা হতো। একটি ঘটনায় একজনকে দীর্ঘ ৭৭ বছর ধরে টানা এলএসডি দেওয়া হয়েছিল যার ধরুন সেই ব্যক্তি কোমায় চলে যান।

তবে শোনা যায় কোনও কোনও সময় সিআইএ নিজেদেরই অবসরপ্রাপ্ত এজেন্টদের ওপরও অপারেশন এম কে আল্টা প্রয়োগ করে থাকে।

১০.অপারেশন পেপারক্লিপ

সদ্য শেষ হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এর মধ্যেই আমেরিকা,  ব্রিটেন এবং রাশিয়া মিলে ছক কষে এই অপারেশন পেপারক্লিপ বা প্রজেক্ট পেপারক্লিপ। 

এই মিশনের লক্ষ্য ছিল কয়েকজন নাৎসি বিজ্ঞানী এবং নাৎসি সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে কয়েদ করা। এই অপারেশনটির পরিচালনায় ছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। 

এই অপারেশনে বিখ্যাত বিজ্ঞানী ভন ব্রাউন এবং আর্থার রুডলফকে জালে পুরেছিল সিআইএ।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে আমেরিকা মহাকাশ গবেষণা এবং চন্দ্র অভিযানে এই দুই বিজ্ঞানীরও অবদান ছিল। কিন্তু এরাই পরবর্তীকালে নাৎসিদের হয়ে বহু বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছিল যার ধরুন তাদের ধরতে এই অপারেশন করেছিল সিআইএ।

এই অপারেশনে আরো ধরা পড়েছিল নাৎসি গুপ্তচর সংস্থার ডিরেক্টর রেইনহার্ড গেহলেন, যিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি পৃথক গুপ্তচর স্কোয়াড তৈরি করেছিল।

শেষ কথা

বিশ্বে এমন অনেক কভার্ট অপারেশন রয়েছে যাদের নাম শুনলে কেঁপে উঠে সমগ্র বিশ্ব। ভয়ানক কিছু কভার্ট অপারেশন স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। 

এই আর্টিকেলে আমরা এমনই বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশন এর নাম তুলে ধরেছি যা হয়তো অনেকের কাছেই অজানা ছিল। এছাড়াও আপনাদের যদি কোনো জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন ঝটপট। 

More to Explore:

পৃথিবীর সেরা ১০ টি ঐতিহাসিক স্থান-জানার আছে অনেক কিছু!

এক পলকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ১০ সেরা ব্যাটসম্যান

Recent Posts