পৃথিবীর সেরা ১০ টি ঐতিহাসিক স্থান-জানার আছে অনেক কিছু!


ইতিহাস-ঐতিহ্য মানবজীবনেরই অংশ। আজকে যে মানবসভ্যতা আমরা দেখতে পাই তা গড়ে ওঠার পেছনে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবদান রয়েছে। 

আজকের আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা পৃথিবীর সেরা ১০ টি ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে জানব যার অধিকাংশই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। 

পৃথিবীর সেরা ১০ টি ঐতিহাসিক স্থান:

১) পেরুর মাচু পিচ্চু 

পেরুর মাচু পিচ্চু

‘মাচু পিচ্চু’ একটি স্পেনীয় শব্দ যার অর্থ পুরনো চূড়া। এটি একটি প্রাচীন শহরের নাম যা পেরুর উরুবাম্বা উপত্যকার উপরে একটি পর্বতচূড়ায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ২৪০০ মিটার। এটি ইনকা সভ্যতার একটি নিদর্শন। একে ‘ইনকাদের হারানো শহর’ বলা হয়ে থাকে। 

১৪৫০ সালে শহরটি নির্মিত হয়। তবে একশ বছর পর ইনকা সভ্যতা যখন স্পেনীয় শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে যদিও স্পেনীয়রা মাচু পিচ্চুর কথা জানতো না। ধারণা করা হয় এ শহরের অধিবাসীগণ গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলো। এরপর তা ক্রমশ ঘন জংগলে ঢেকে যায় ও কয়েকশ বছর অজ্ঞাত থেকে যায়। ১৯১১ সালে হাইরাম বিংহেম নামক একজন মার্কিন আর্কিওলজিস্ট এই শহরকে পুনরায় বিশ্বের নজরে নিয়ে আসেন। 

১৪৫০ সালে ইনকা সভ্যতার স্বর্ণযুগ চলাকালীন এই শহরটি নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক ও পুরাতত্ত্ববিদদের মাঝে একে নিয়ে কিছু মতপার্থক্য আছে। কেউ কেউ মনে করেন এটি ইনকাদের একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান ছিলো।আবার আরেক দল মনে করেন এটি পাচাকুতিক (১৪৩৮-১৪৭২) নামক ইনকা রাজার শাসনামলে তৈরি করা হয়েছিলো এবং এটি ছিলো সেই রাজার রাজধানী। 

আবার এমন অনেকে আছেন যারা মনে করেন এটি ছিলো ইনকা রাজাদের নির্মিত জেলখানা! এখানে ভয়ংকর সব অপরাধীদের এনে রাখা হতো। জন রো ও রিচার্ড বার্গার নামক দুজন গবেষক মনে করেন এটি ছিলো ইনকা রাজাদের অবকাশ যাপন কেন্দ্র। বেশির ভাগ পুরাতত্ত্ববিদ এই মতবাদকে সমথর্ন করেছেন।

ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে মাচু পিচ্চুকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত করে। 

২) রোমের কলোসিয়াম

রোমের কলোসিয়াম

কলোসিয়াম হলো ইটালির রোম শহরে অবস্থিত একটি প্রাচীন এম্ফিথিয়েটার যা রোমান সাম্রাজ্যের একটি বিশেষ নিদর্শন। এটি একটি বৃহৎ উপবৃত্তাকার ছাদবিহীন মঞ্চ যা ৫০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিলো ৭০ থেকে ৭২ খ্রিস্টাব্দের মাঝে কোন এক সময়ে সম্রাট ভেসপাসিয়ানের আমলে। আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ৮০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট তিতুসের আমলে। এর আদিনাম ছিলো ফ্ল্যাভিয়ান নাট্যশালা। 

রোমান সাম্রাজ্যের চরম কঠোরতার উদাহরণ বলা হয়ে থাকে এই কলোসিয়ামকে। এটি ছিলো রোমানদের বিনোদন কেন্দ্র। তাদের বিনোদনের মূল আকর্ষণ ছিলো গ্ল্যাডিয়েটরদের যুদ্ধ ও হিংস্র পশুর লড়াই। মূলত ক্রীতদাস ও যুদ্ধবন্দীদের গ্ল্যাডিয়েটর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তাদেরকে সামরিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। কখনো কখনো তাদের ছেড়ে দেওয়া হতো হিংস্র ক্ষুধার্ত পশুর সম্মুখে। উত্তর আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু আমদানি করা হতো। যেমন- বাঘ, সিংহ, হাতি, গন্ডার, নেকড়ে, ভাল্লুক, কুমির ইত্যাদি। 

একে মনুষ্য নির্মিত আধুনিক সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে মনে করা হয়। ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে রোমের কলোসিয়ামকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত করে। 

৩) এথেন্সের পার্থেনন ও এক্রোপলিস

এথেন্সের পার্থেনন ও এক্রোপলিস

আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো শহর প্রাচীন ধর্ম ও অতীত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার মধ্যে গ্রিসের এথেন্স অন্যতম।

এথেন্সের ইলিসস উপত্যকায় চুনাপাথরের পাহাড়ের উপর গ্রিক দেবী এথেনার সম্মানে নির্মাণ করা হয় পার্থেনন মন্দিরটি। এথেনার অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য গ্রিসের শাসকগোষ্ঠী সেকালে ছোট-বড় আরো বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন। এসব স্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত অঞ্চলটি বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রমতে এক্রোপলিস নামেই অভিহিত। 

প্রায় ২৫০০ বছর আগে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয় এই পার্থেনন ও এক্রোপলিস। গ্রীকদের সেকালের নির্মাণশৈলি অনেক উন্নতমানের ছিলো। পরবর্তীকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিকম্প, যুদ্ধ বা বোমা বিস্ফোরণেও এই স্থাপত্যগুলো প্রায় অক্ষত রয়েছে। পার্থেননের দুজন স্থপতি হলেন ইক্তিনাস ও ক্যালিক্রেটস এবং ভাস্কর্য নির্মাতা হলেন ফিদিয়াস। আধুনিক যুগের প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেই আমলে এই তিন স্থপতির পরিকল্পনা ও কাজ দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়েছেন। খ্রীস্টপূর্ব ৪৪৭ সালে যে মানুষ এমন আধুনিক কলাকৌশলের ব্যবহার জানতো তা পার্থেনন মন্দিরটি না দেখলে বিশ্বাস হবে না! 

নির্মাণের পর প্রায় ১০০০ বছর এটি গ্রিকদের ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৫ম খ্রিস্টাব্দে এথেন্স বাইজেন্টাইন ও রোমানদের হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তা অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। অতঃপর ১৯ শতকে গ্রিস স্বাধীনতা অর্জন করে। ফলে এথেন্স ও পার্থেনন ফিরে পায়। অবশ্য ততোদিনে মূল কাঠামো ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। মন্দিরের ভেতরের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীও চুরি হয়ে গিয়েছিলো। 

মূলত পার্থেনন ও এক্রোপলিসই গ্রিসের এথেন্সকে বিশ্বের বুকে প্রাচীন ইতিহাসসমৃদ্ধ সবচেয়ে উন্নত শহর হিসেবে উপস্থাপন করেছে। 

৪) ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জ

ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জ

ইংল্যান্ডের দক্ষিণাংশে উইল্টশায়ারের কাছে অবস্থিত প্রায় ১০০টি বৃহৎ আকারের খাড়া পাথরের গোলাকার বিন্যাসের নাম স্টোনহেঞ্জ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা এর রহস্য নিয়ে বিভ্রান্তির মাঝেই আছেন। এটি কি উদ্দেশ্যে ও কোন পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয়েছিলো এর কোন সঠিক সদুত্তর আজও পাওয়া যায়নি। 

স্টোনহেঞ্জ নির্মাণে যেসব পাথর ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে বাইরের দিকের পাথরগুলো স্থানীয় হলেও ভেতরের বলয়ের পাথরগুলো স্থানীয় নয়। সেগুলো আনা হয়েছে ওয়েলস থেকে যা স্টোনহেঞ্জ থেকে ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত। আনুমানিক ৮০টি বিদেশি ব্লুস্টোন পাথর দণ্ডায়মান করে রাখা হয় যার মধ্যে ৪৩টি এখনো অক্ষত আছে। বাইরের বলয় তৈরি করা হয় সারসেন বেলেপাথরের ফলক দিয়ে। বর্তমানে ৫০টির মতো বেলেপাথর আছে, ধারণা করা হয় পূর্বে আরো ছিলো। 

বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা এ ব্যাপারে একমত যে স্টোনহেঞ্জ কেউ একা তৈরি করেনি এবং এককালেও তৈরি হয়নি। এটি বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন কালের মানুষদের দ্বারা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হয় ৫০০০ বছর পূর্বে নব্য প্রস্তর যুগের ব্রিটিশদের দ্বারা এর নির্মাণকাজ শুরু হয় আর খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো স্টোনহেঞ্জকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

৫) জর্ডানের পেত্রা

জর্ডানের পেত্রা

‘পেত্রা’ শব্দের অর্থ হলো পাথরের নগরী। এই নগরীটি জর্ডানের মুসা বারমুসা উপত্যকায় অবস্থিত। সুইস পর্যটক জোহান লুইগ বার্ক হার্ডিট ১৮১২ সালে এটি আবিষ্কার করেন। 

এই নগরীর গোড়াপত্তন হয় খ্রিস্ট জন্মের ৬০০ বছর পূর্বে রাজা এরিটাসের শাসনামলে। এটি ছিলো নাবাতিয়ানদের রাজধানী। ২য় ও ৩য় শতকে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো এই শহর। ৭ম শতকে মুসলমানরা ও ১২শ শতকে ক্রুসেডাররা পেত্রার দখল নেয়। 

৩৬৩ সালে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প সাধিত হলে পেত্রার ৫০ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এখনো এই শহরটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সুন্দর পাথুরে স্থাপত্য ও উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত ছিলো এই শহরটি। 

৬) কলোরাডোর মেসা ভার্ডে

কলোরাডোর মেসা ভার্ডে

‘মেসা ভার্ডে’ একটি স্পেনীয় শব্দ যার অর্থ সবুজ মালভূমি। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাতে মানুষ সর্বশেষ জনবসতি স্থাপনে সক্ষম হয়েছিলো। নৃবিজ্ঞানীদের গবেষণামতে এক লাখ বছর আগে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বেরিয়ে আসার পর আমেরিকা মহাদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে আদিম মানুষের প্রায় আশি হাজার বছর সময় লেগে যায়! এই আদি মানবের বংশধরেরাই উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় বিভিন্ন সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে পুয়েব্লো সভ্যতা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। 

এই সভ্যতার মানুষ আমেরিকায় বৃহত্তম ক্লিফ ডুয়েলিং বা পার্বত্য জনপদ নির্মাণ করেছিলো। এই জনপদের নাম মেসা ভার্ডে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যে অবস্থিত যা ফোর কর্নার্স নামেও পরিচিত। পুয়েব্লো সভ্যতা প্রায় সাতশ বছর টিকেছিলো বলে অনুমান করা হয় (৫৫০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দ)। এই জনপদের অধিবাসীদের দ্বারা তৈরি বাড়ি ও গ্রামগুলোর অসংখ্য ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। 

মেসা ভার্ডেকে বর্তমানে ন্যাশনাল পার্কে পরিণত করা হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ। ১৯০৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট কর্তৃক পার্কটি নির্মাণ করা হয়। বিশ্বের সেরা সংরক্ষিত পাহাড়ে মানুষের তৈরি কিছু আবাস যেন তিনি রক্ষা করতে পারেন, পার্ক নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিলো এটাই। ইউনেস্কো একে ১৯৭৮ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

৭) ফ্রান্সের লাসকাউক্স

ফ্রান্সের লাসকাউক্স

লাসকাউক্স একটি গুহার নাম। এটি ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে মন্টিগনেক গ্রামের পাশে অবস্থিত। গুহাটির বয়স ১৭ হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়। 

এর দেয়ালে ৬০০ টির মতো পেইন্টিং পাওয়া গেছে যা সেই সময়কার মানুষদের আঁকা। এসব চিত্রকর্মের মধ্যে তৎকালীন বৃহত্তম প্রাণীসমূহের ছবিও রয়েছে যা জীবাশ্ম গবেষণার অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থেকে প্রাপ্ত রং যেমন-লাল, হলুদ, কালো, বাদামী, বেগুনী ইত্যাদি দিয়ে গুহাচিত্রগুলো আঁকা হয়েছে। 

গুহার চিত্রকর্মের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেজন্যে ফ্রান্স সরকার ১৯৬৩ সালে এখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়। কেবল কয়েকজন বিজ্ঞানী মাসে কিছুদিন তাদের গবেষণা কর্মের স্বার্থে গুহায় প্রবেশের অনুমতি পান। লাসকাউক্স ১৯৭৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানের উপাধি লাভ করে। 

৮) মেক্সিকোর চিচেন ইতজা

মেক্সিকোর চিচেন ইতজা

প্রাচীন মায়ান সভ্যতার প্রধান নিদর্শন হলো চিচেন ইতজা শহরটি। এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি মেক্সিকোর ইউকাতান রাজ্যে অবস্থিত। ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি মায়ান সভ্যতার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিলো।

ইতজারা ছিলো মায়ানদের এক আদিবাসী গোষ্ঠী। শহরটির নামের মধ্যে যে কুয়ার কথা উল্লেখ আছে তা ভূগর্ভস্থ কিছু নদীকে নির্দেশ করে। এই নদীগুলো পুরো এলাকা জুড়ে প্রবাহিত হতো এবং এগুলোই ছিলো শহরের মূল পানির উৎস। চিচেন ইতজা একটি সমৃদ্ধশালী বাণিজ্যকেন্দ্র ছিলো। শহরটির বিস্তার ছিলো দুই বর্গমাইল পর্যন্ত। ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি এটি বাড়িঘরে পরিপূর্ণ ছিলো এবং পাথরের তৈরি বিভিন্ন স্থাপনাও ছিলো। 

১৮০০ শতকের মাঝামাঝিতে চিচেন ইতজা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পরিণত হয়। এই শহরের প্রথম দিকের কিছু নিদর্শন আজো সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। যেমন- এল কেস্টিলো, দ্য গ্রেট বল কোর্ট, দ্য নর্থ টেম্পল, দ্য স্টিম বাথ, এল মারকেডো ইত্যাদি। গবেষকরা আজও মায়ান সভ্যতা সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে চিচেন ইতজার উপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

৯) তিব্বতের পোতালা

 তিব্বতের পোতালা

বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার হলো তিব্বতের পোতালা প্রাসাদ। এটি তিব্বতের লাসায় অবস্থিত। এই বিহারটিকে তিব্বতের রাজা সংস্থান গম্পো ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেছিলেন। এতে মোট ১০০০টি কক্ষ এবং ১ লক্ষেরও বেশি মূর্তি রয়েছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৭০০ মিটার উচ্চতায় এবং মাটি থেকে ৩০০ মিটার উঁচুতে পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত। 

পূর্বে এটি তিব্বতি আধ্যাত্মিক প্রধান দালাই লামার বাসস্থান ছিলো। ১৯৫৯ সালে চীন কর্তৃক তিব্বত দখল হওয়ার পর চতুর্দশ দালাই লামা প্রাসাদ ত্যাগ করে চলে যান। এরপর থেকে তা জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

পোতালা বিশ্বের সুন্দরতম প্রাসাদগুলোর একটি। এখানে রয়েছে শ্বেত প্রাসাদ, লাল প্রাসাদ, বৃহৎ পশ্চিম হল প্রভৃতি ভবন। ইউনেস্কো ১৯৯৪ সালে একে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। 

১০) স্পেনের আলহামরা

স্পেনের আলহামরা

আলহামরা প্রাসাদটি স্পেনের আন্দালুসিয়ার গ্রানাডাতে অবস্থিত। এর পূর্ণ নাম ছিলো কালাত আল হামরা। এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ লাল কেল্লা। গ্রানাডা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে আস্ সাবিক পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই দুর্গ-প্রাসাদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি রোমান দুর্গের ভিত্তিতে ৯ম শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত হয় এবং ১৩দশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে সুদৃশ্য স্থাপনা হিসেবে সম্পূর্ণতা পায়। 

এটি নাসরি রাজবংশের শাসনকালে তৈরি করা হয়েছিলো যা তৎকালীন শাসকদের বাসস্থান ও রাজসভা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সম্রাট ফার্ডিনান্ড ও রাণী ইসাবেলা স্পেন জয় করার পর এটিকে তাদের প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার করেন। 

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন বলা হয়ে থাকে আলহামরা প্রাসাদকে। এটি মুরিশ স্থপতিদের পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে। মুরিশ কবিরা একে বলেছেন ‘পান্নায় খচিত মুক্তা’। চারপাশের সবুজ বনের মাঝে চোখ ধাঁধানো অবস্থানের কারণে এমন উপমায় ভূষিত হয়েছে আলহামরা।  

এই মধ্যযুগীয় স্থাপত্যটি তার পরিকল্পিত নির্মাণ, জটিল ও কারুকার্যময় সাজসজ্জা, মনোমুগ্ধকর বাগান ও ঝর্ণার জন্য বিখ্যাত। প্রাসাদের বাঁ দিক দিয়ে বয়ে গেছে দারো নদী। এটি এমন একটি পজিশনে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে প্রাসাদ থেকেই গ্রানাডা শহরের অসাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ে। বর্তমানে প্রাসাদের যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকুকেই ইউনেস্কো ১৯৮৪ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

শেষকথা

পৃথিবীর সেরা ১০ টি ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে এই ছিলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আসলে জানার কোন শেষ নেই। আর জানার সেই বিষয়টি যদি হয়ে থাকে ইতিহাস-ঐতিহ্য তবে তা আরো চিত্তাকর্ষক! 

আসুন ইতিহাস-ঐতিহ্যের জ্ঞানে নিজেরা সমৃদ্ধ হই এবং অন্যদেরকেও তা জানার সুযোগ করে দেই। 

Explore more:

এক পলকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ১০ সেরা ব্যাটসম্যান

Recent Posts